আলো অন্ধকারে যাই

-আমার সাথে যাবে?
-কোথায়?
-ছাদে..
-ছাদে কি?
-কিছু না! অন্ধকার!
-অন্ধকারে কেন যাব?
-আলো দেখতে।
-মানে?
-মানে আর কি! ওই তো! অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকব কিছুক্ষণ। আকাশ দেখব।
-আলো দেখার কথা বললেন যে?
-দেখবই তো। আগে ছাদে তো চল।
-আপনার ছাদে আপনি যান। আমার এসব ভাল্লাগে না।

আনোয়ার আর কিছু না বলে চুপচাপ ছাদে চলে এলো। একা একা আনমনে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। চারিদিকে ধূ ধূ অন্ধকার। দূরের গাড়ির হেডলাইটগুলো ছোট ছোট কুপি বাতির মত দৌঁড়াচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে অদ্ভুত একটা ঘ্রাণ এসে লাগছে তার নাকে। কিসের ঘ্রাণ? ডাল তেলে দিলে এমন ঘ্রাণ কি বের হয়? কই না তো! মনে হচ্ছে আশপাশে কেউ পাকান পিঠা ভাজছে। তেলে পিঠা ছেড়ে দিলে যেমন মৌ মৌ ঘ্রাণ বের হয়, অনেকটা সেরকম কি? না তো! ঘ্রাণটা কিসের? অন্ধকারের? ধুর! অন্ধকারের আবার ঘ্রাণ আছে নাকি? অথচ খুব পরিচিত লাগছে ঘ্রাণটা তার কাছে।

-কী দেখছেন আকাশে?
আনোয়ার ঝট করে মাথা ঘুরিয়ে তাকাল। সাথে সাথে ঘ্রাণ বিষয়ক জটিলতারও সমাধান হয়ে গেল। সুষমার এলোমেলো চুল ছড়াচ্ছে এই ঘ্রাণ। আনোয়ার ছাদে আর পরপরই পা টিপে টিপে তার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে সে!

-কই বললেন না তো কি দেখছেন?
-দেখতে চাও?
-হু।
-চোখ বন্ধ কর তাহলে।
-চোখ বন্ধ করে দেখব কি করে?
-করেই দেখ না।
সুষমা ছাদের রেলিং এ দুই হাত রেখে চোখ বন্ধ করে আকাশের দিকে মাথা তুলে চুপ করে থাকল। অদ্ভুত এক হালকা বাতাসে উড়ছে তার চুলগুলো। বাতাসের ঝাপটা এসে লাগছে নাকে মুখে। কি একটা ঘ্রাণ এসে তার নাকেও লাগছে। ঘ্রাণটা যে কিসের, সেটা সুষমা বুঝতে পারছে না। তবে বন্ধ চোখে আকাশ দেখতে খুব একটা খারাপ লাগছে না তার।
-কি দেখতে পাচ্ছ?
-দেখার চেষ্টা করছি।
-আরেকটু চেষ্টা কর! নিশ্চয়ই দেখতে পাবে।
রেলিং এর ওপর রাখা সুষমার ডান হাতের পিঠের ওপর আলতো করে আরেকটা হাত এসে পড়ল। সুষমার সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। আনোয়ার সুষমার হাতের পিঠে হালকা একটা চাপ দিয়ে বলল- কি দেখতে পাচ্ছ আলো?
-হু, পাচ্ছি।

সুষমার মনে হলো, আকাশটা একেবারে নেমে এসেছে তার বন্ধ চোখের কাছে। রাশি রাশি তারা তার চোখের এতটা কাছে যে হাত বাড়ালেই ধরা যায়। বিন্দু বিন্দু জোনাকীর মত মনে হচ্ছে একেকটা তারা। চোখ খুললেই দেখা যায়। অথচ সে চোখ বন্ধ করেই আছে। পাছে আবার চোখ খুললে তারা গুলো পালিয়ে যায় কি না সামনে থেকে সেই ভয়ে! সে চোখ বন্ধ রেখেই ফিসফিসিয়ে বলল- এই ভাবে আপনি আমাকে জীবনভর আলো দেখাবেন?

আনোয়ার কিছু বলতে যাচ্ছিল, সুষমা তাকে থামিয়ে দিল- চুপ চুপ! কথা বলবেন না! চুপচাপ আমার হাতটা ধরে থাকুন! আমি একটু আলো দেখি!

রবিউল করিম মৃদুল