এক যুগ পর

ধরো তখন অনেক দিন চলে গেছে, দিন রাত মাস বছর শেষে একটা লম্বা হিসাবের দূরত্ব পেরিয়ে গেছে।

তুমি সব ভুলে গিয়ে সংসারে আবার মনোযোগী হয়েছো,তোমার এককালের অবহেলিত মানুষকে এখন রোজ রোজ জমিয়ে ভালোবাসায় বিভোর করে তুলেছো।

সেও তোমাকে বুকে আগলিয়ে রেখে তোমার সমস্ত অভিযোগ মুছে দিয়ে রোজ রোজ উন্মাতাল প্রেমে মশগুল রেখেছে তোমায়|

বিশ্বাস করো আমি তখনো ভেতরে ভেতরে ভীষণ একা থাকবো,

আমি উন্মাদ পথিকের ন্যায় এ বাড়ি ও বাড়ি করে করে তোমার উষ্ণ ছোঁয়ার ঘ্রাণ নেবো,

আমি তখনো আমাদের ফেলা আসা অতীতের স্মৃতি বিজড়িত জায়গাগুলোতে তোমার স্পর্শ হাতড়িয়ে বেড়াবো।

ধরো সমাজকে দেখানোর মতো সবই আছে, একটা পরিবার, একটা বাহ্যিক সুখী পরিবারের যাবতীয় উপাদান স্তরে স্তরে সাজানো আছে।
দূর থেকে আমি তখনো ও ভীষণ আবেগী একজন পুরোদস্তুর সুখী মানুষ।

কিন্তু পোড় খাওয়া মানুষটার ভেতর দেখার মতো তখন কেউ থাকবে না।
রোজ রোজ সুখী মানুষের অভিনয়ে আমার আমিকে হারিয়ে ফেলা অসহ্য কষ্টের রাত্রির সাক্ষী তখন কেউ হবে না।
দেখবে না কেউ তুমিহীনা কি ব্যাথায় জ্বলে পুড়ে অংগার হয়ে নিঃশেষ হচ্ছি তখন দিনের পর দিন।

ধরো তখন এক যুগ পেরিয়ে গেছে,আমাদের সে সময়গুলো এখন বেশ পুরোনো হয়ে গেছে।
ধরো কোন এক সন্ধ্যায় আবার মুখোমুখি হলাম দুজনে,
তখন আমাদের কথা জুড়ে কি কি থাকবে।
আমরা কি তখন আগের মতো বিভোর হবো ভালোবাসায়
নাকি আবার অভিমানে কাতর হবো বিষাদে।
নাকি বলবো এই তোমায় কি কেউ নক দেয়? এখনো কি তোমায় আগের মতো অন্য কেউ জ্বালায়?
নাকি তুমি জিজ্ঞেস করবে আমায়, এই ইদানিং কি কি কবিতা লিখো তুমি?
তোমার কবিতায় কি এখনো আছি আমি?

ধরো একদিন সবুজের পথে দেখা হয়ে গেলো হুট করে,
তুমি হয়তো রিক্সা খুঁজছো, তখন হয়তো আমি বলবো চলো আজ নাহয় আবার একটু পাশাপাশি হাঁটি।
মৌণ সম্মতি দিয়ে তুমি কি সেদিন পাশাপাশি হেঁটে আনমনে জিজ্ঞেস করবে,কেমন আছো তুমি?
ধরো তখন তুমি এত সুখের ভীড়ে একটু অবসর পাও না আমাকে ভাবার,
তখন কি একবার ম্যাসেজে বলবে শুভ সকাল, কিংবা শুভরাত্রি।
নাকি আবার লিখে দেবে চিরাচরিত সেই শব্দ ভালোবাসি।

ধরো সেদিন তোমার চুলে পাক ধরেছে, চোখে তখন শোভা পায় মোটা ফ্রেমের চশমা,
তখন ও কি আমার লেখা পড়ার জন্য হন্যে হয়ে ফেসবুকে সার্চ দিয়ে আমাকে খুঁজবে,
আমার ছবি দেখার জন্য তখনো কি কবিতার পরতে পরতে তোমার মনোযোগি চোখ থাকবে?
তখন কি তুমি রেগে যাবে, অসংখ্য মেয়েদের মন্তব্য আমার ছবিতে কিংবা কবিতায় দেখে।

ধরো তুমি জানতে পেরেছো তুমিহীনা আমি রাত্রিগুলো পার করি সিগারেটের ধোঁয়ায় আছন্ন হয়ে,
ফজরের সন্নিকটে এসেও আমার চোখে ঘুম আসে না রোজ রোজ।
তুমি কি তখন আমার রাত্রিতে আগের মতো সঙ্গী হবে!
আগের মতো বিভোর ভালোবাসায় অসংখ্যবার ছোঁয়ার প্রতিশ্রুতি দেবে?
আমাদের সেই বয়সে হয়তো আগের মতো আবেগী হতে মানাবে না।
তারপর ও যদি তোমাকে আবার ভালোবাসি বলি,
তুমি কি তখন বিশ্বাস করবে?
তখন কি আরেকবার চুমু খাবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটিবার আবার দেখা করার নিশ্চয়তাটুকু দেবে।

-নিলয় আহমেদ