এ পারফেক্ট রিভেঞ্জ (২য় পর্ব)

ডিনার টেবিলে হরেক রকমের খাবার শোভা পাচ্ছে। সবই অবশ্য আমেরিকানদের খাবার। মিক্সড গ্রীন সালাদ, ম্যাসড পটেটো, লুজ কর্ন, অ্যাসপ্যারাগাস এবং মিক্সড ভেজিটেবল। সঙ্গে সাইড হিসেবে আরো আছে পেঁয়াজ ও রসুন দিয়ে ভাজা মাশরুম। প্লেট, গ্লাস, কাঁটা চামচ, ছুরি—সুন্দর করে সাজানো। রজার্স যেহেতু প্রথম বারের মত ইমরানের আতিথেয়তা নিচ্ছে তার কথা ভেবেই এমন আয়োজন।

স্টেকের ট্রেটি টেবিলের অন্য প্রান্তে রেখে ধারাল ছুরি দিয়ে একটা একটা স্লাইস কেটে সবার প্লেটে তুলে দিল ইমরান—তার তৈরী করা স্পেশাল গার্লিক বাটার স্টেক। সবার প্লেটে দেয়া হয়ে গেলে সে পেশাদার শেফদের মতো বলল, ‘লেডিস এণ্ড জেন্টেলম্যান প্লিজ এনজয় ইয়োর ডিনার।’

এলিনা সালাদের বাটি থেকে একটু সালাদ নিজের প্লেটে তুলে নিয়ে রজার্সের দিকে এগিয়ে দিল। রজার্স তার স্টেক থেকে এক টুকরা মাংস কেটে নিয়ে মুখে পুরে একটু খেয়ে ইমরানের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘দিস ইজ এক্সেলেন্ট!’ আমেরিকানরা এই ভদ্রতাটুকু করে থাকে। খেতে অখাদ্য হলেও বলবে, ওয়াও এমন রান্না আমি আগে কখনো খাইনি,দারুন হয়েছে।

‘ইউ এপ্রুভ?’ ইমরান জানতে চাইল।

‘আই ডু।’

‘ওহ, থ্যাঙ্ক ইউ।’

এরপরে আর কেউ কোনো কথা না বলে যার যার প্লেটে মনোযোগ দিল। কাঁটা ছুরি আর কাঁটা চামচের কাঁটাকাঁটির মৃদু শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ যেন নেই কোথাও।

এলিনা একবার তাকাল ইরিনের দিকে। ইরিন চুপচাপ। তাকে খুবই অন্যমনস্ক লাগছে। ঠিকমতো খাচ্ছে বলেও মনে হলো না। কোনো এক বিচিত্র কারণে তাকে কিছুটা অস্থির মনে হচ্ছে। কোনো কিছুর উপরে সে বিরক্ত।কিন্তু কেন?

রজার্স বেশ কয়েকবার তাকাল ইরিনের দিকে। ইরিন ভুল করেও তার দিকে তাকাল না।

ইমরান লক্ষ্য করল ইরিন তেমন কিছুই খাচ্ছে না। অথচ ইমরানের স্টেক প্রিপারেশন ইরিন এবং এলিনা দুজনেরই অনেক পছন্দ। ইমরান প্রায় উইকএণ্ডেই ওদের জন্যে স্টেক বানিয়ে দিত। ওরা দুজন গল্প করতে করতে খুব মজা করে খেত। আর প্রশংসা করত ইমরানের স্টেক রেসিপির—তারও ভীষণ মজা লাগত বিষয়টা। কত সুন্দর কাটছিল ওদের দিনগুলি। হঠাৎ কেমন এলোমেলো হয়ে গেল সবকিছু। ইমরান এখনো হিসাব মেলাতে পারে না।

‘এক্সকিউজ মি।’ খাবার শেষ না করেই ইরিন হঠাৎ তার প্লেট নিয়ে উঠে চলে গেল কিচেনে।

ইতিমধ্যেই এলিনার খাওয়া প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। একটু সময় পার করে সেও গিয়ে দাঁড়াল ইরিনের পাশে।

বেসিনে প্লেট রেখে ঘুরে দাঁড়াতেই ইরিন মুখোমুখি হলো এলিনার। সে ডাইনিং টেবিলের দিকে আঙুল দেখিয়ে নিচু গলায় চাপা ক্ষোভের সাথে বলল, ‘ওকে এনেছো কেন?’

‘মানে কী?’ এলিনা প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকাল ইরিনের মুখের দিকে?

‘হোয়াই ডিড ইউ ব্রিং হিম হিয়ার?’ ইরিন আবার বলল।

এলিনার মুখ হা হয়ে গেল। সে নিজের কানকে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না। ইরিন কী বলছে এসব? সে চোখ বড় করে আহত স্বরে বলল, ‘কী? কী বলছো তুমি? হোয়াট আর ইউ টকিং এবাউট?’

‘ইউ নো হোয়াট আই’ম টকিং এবাউট। কেন এনেছো? ওকে? তোমার বয়ফ্রেণ্ডকে?’

লজ্জায় লাল হয়ে গেল এলিনার মুখ। নিজেকে স্থির রাখতে ভাল সমস্যা হচ্ছে তার। তবুও নিজেকে যথা সম্ভব স্বাভাবিক রেখে লজ্জিত এবং বিব্রত কণ্ঠে সে বলল, ‘আমি আনতে চাইনি। তোমার বাবা বলল তাই নিয়ে এলাম। ইয়োর ড্যাড ইনসিসটেড।’ শেষের কথাটি বেশ জোরের সাথেই বলল এলিনা।

‘বাবা বলেছে?’ ইরিন বেশ অবাক হল—খানিকটা দ্বিধায় পড়ে গেল সে। ইমরান তাকে বলেছিল উইকএণ্ডে তোমার আম্মু আসবে। কোথাও কোনো প্ল্যান রেখো না। আমরা একসাথে ডিনার করব। তোমাদের ফেবারিট বিফ স্টেক প্রিপেয়ার করব ভাবছি। ইমরানের কথায় ইরিন মনে মনে খুশিই হয়েছিল। যদিও তার মায়ের প্রতি আগের সেই তীব্র ভালবাসার টানটা এখন আর অনুভব করে না সে।

ইরিন কিচেন তোয়ালে দিয়ে হাত মুছতে মুছতে বলল, ‘আই নিড টু টক টু ইউ। তুমি কি আমার রুমে একটু আসতে পারবে?’

এলিনা বুঝতে পারল না ইরিনের কী এমন কথা থাকতে পারে? তারপরেই ভাবল,ইরিনের সাথে তার সম্পর্কটা যত না মা-মেয়ের তার চেয়েও বেশি বন্ধুত্বের। মেয়েটি নিশ্চয়ই তাকে অনেক মিস করে। কত কথাই তো বলার থাকতে পারে। একটা মেয়ের শিশুকাল শুরুই হয় মায়ের প্রতি নির্ভরতা দিয়ে। সৃষ্টি হয় আনুগত্য আর তীব্র ভালবাসার। এই কিছুদিন আগেও এলিনাই ইরিনকে স্কুলে আনা-নেয়া করত। স্কুল থেকে ফেরার সময় গাড়িতে উঠেই ইরিন শুরু করত বকবকানি। এলিনা হাসত আর তার কথা শুনত। সেই মেয়েটি কেমন নির্জিব হয়ে গেছে। হয়ত বয়ঃসন্ধির কারণে তার আচরণে কিছু অস্বাভাবিকতা এসেছে। একটা অবাধ্য—স্বেচ্ছাচারী আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে ইদানিং। কেমন একটা স্বাধীনচেতা ভাব চলে এসেছে। মেয়েটি হঠাৎ করেই যেন বড় হয়ে গেছে। মা-মেয়ের মধুর সম্পর্কটা আগের মতো আর নেই সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। রজার্সের কারণেই কি মা-মেয়ের সেই মধুর সম্পর্ক তিক্ত হতে শুরু করেছে নাকি আরো অন্য কোনো কারণ আছে?

এলিনা একটু ভেবে নিয়ে বলল, ‘বরং চলো, আমরা বাইরে থেকে একটু হেঁটে আসি। হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা যাবে। এই নেইবারহুডে কতদিন হাঁটা হয় না!’

ইরিন আসলে চাইছিল বাইরেই যেতে। কিছু একটা কারণে ইরিনের এই মুহূর্তে এই ঘরটার মধ্যে এক সেকেণ্ডও থাকতে ইচ্ছে করছে না। এলিনা কী করে তার মনের ইচ্ছেটা বুঝে ফেলল কে জানে। সে খানিকটা অবাক হয়েই তাকাল এলিনার চোখের দিকে তারপর বলল, ‘ঠিক আছে চলো।’

‘রজার্স, আই’ম গোয়িং আউট ফর এ ওয়াক উইথ ইরিন। মেক ইয়োরসেলফ কমফোরটেবল বাট ডু নট ড্রিংক টু মাচ। ইউ হ্যাভ টু ড্রাইভ ব্যাক, রিমেমবার।’ ইরিনকে নিয়ে বের হয়ে যাবার সময় দূর থেকে রজার্সের উদ্দশ্যে বলল এলিনা।

‘আই উইল বি ফাইন হানি। এনজয় ইয়োর ওয়াক।’ রজার্স উত্তর দিল।

ইমরান দুটো প্লেট নিয়ে এসে কিচেনের দিকে যাচ্ছিল। এলিনা একটু এগিয়ে এসে রজার্সকে ইঙ্গিত করে বলল, ‘ওকে কিন্তু বেশি ড্রিঙ্ক করতে দিও না। নাহলে আবার আমাকে ড্রাইভ করতে হবে। তুমি তো জানই রাতে আমি একদমই ড্রাইভ করতে পছন্দ করি না।’

ইমরানকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই এলিনা ইরিনকে নিয়ে বের হয়ে গেল বাসা থেকে। ইমরান ওদের চলে যাওয়ার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।

ইরিনকে নিয়ে এলিনা বাইরে চলে যাওয়ায় ইমরান মনে মনে বেশ খুশিই হল। নাহলে প্ল্যান-বি এপ্লাই করতে হতো। সে কাজটি খুব একটা সহজ হত না। এখন সে নিশ্চিত।

রজার্সের সঙ্গে তার কিছু বোঝাপড়া আছে আর সেটা সে একাই করতে চায়।


ডিনার শেষে ইমরানের লিভিং রুম সংলগ্ন ছোট্ট লিকার বারের উঁচু কাউন্টারের টুলের উপরে বসে আছে রজার্স। একটি ওল্ড-ফ্যাশন গ্লাসে বার্বোন হুইস্কির সঙ্গে অ্যারোমেটিক বিটার মিশিয়ে একটি ড্রিঙ্ক বানিয়ে তার সামনে এগিয়ে দিল ইমরান। সামান্য ক্লাব-সোডা মিশিয়ে ভাসানো হয়েছে কমলালেবুর একটি চাকতি, তাতে রুপালি বুদ্বুদ উঠছে প্রচুর। রজার্স ড্রিঙ্কে একটা চুমুক দিয়ে চুপ করে বসে রইল। ইমরান শীতল দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে রইল রজার্সের দিকে।


ইমরানের বাংলো টাইপের দোতলা বাড়িটির আশে পাশে একই মডেলের আরো অনেকগুলো বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে সারিবদ্ধ ভাবে। দুপাশের সারি সারি বাড়িরগুলো সামনে দিয়ে সুন্দর পায়ে হাঁটার রাস্তা। এলিনা আর ইরিন ধীর পায়ে হেঁটে যাচ্ছে। কিছুদূর এগিয়ে যেয়ে এলিনা ইরিনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘তোমার কি শরীর খারাপ?’

‘নো। আই’ম ফাইন।’

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে এলিনা আবার বলল, ‘তোমাকে দেখে কিন্তু মনে হচ্ছে না তুমি ভাল আছো।’

‘আমি ভাল আছি মাম।’

‘ভাল থাকার তো কথা না। নিশ্চয়ই শরীর খারাপ করেছে। এমনিতেই তোমার এলার্জির সমস্যা। নিজে এখনো একা খেতে পারো না। সব জেনে শুনে তুমি তোমার বাবার কাছেই পড়ে আছো। আর তোমার বাবাও যতই দিন যাচ্ছে, ততই দেখি মানুষটা মূর্খ হচ্ছে।’

‘তুমি শুধু শুধু বাবাকে ব্লেইম করো কেন?’

এলিনার সঙ্গে ইরিন সব সময় বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করে। বাসায় বাবা-মায়ের সঙ্গে বাংলায় কথা বলতে বলতে এখন বেশ স্বাছন্দেই কথা বলতে পারে সে। উচ্চারণে সামান্য সমস্যা থাকলেও আমেরিকায় জন্ম নেয়া অন্যান্য বাচ্চাদের তুলনায় ইরিনের বাংলা যথেষ্ট পরিষ্কার। অনেক সময় স্কুলের বন্ধুদের সামনে কোনো সিক্রেট বা এমন কোনো ঘটনা বন্ধুদের সামনে বললে তাঁরা বুঝে যাবে—তখন সে তার মায়ের সঙ্গে বাংলায় কথা বলে।

এলিনা বলল, ‘শুধু শুধু ব্লেইম করি না যা সত্যি তাই বলি। তাছাড়া, তোমাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে তোমার শরীর ভাল নেই। খাওয়া দাওয়াতো কিছুই করো না।’

‘দ্যাটস নট ট্রু। হোয়েন আই’ম হাংগ্রি আই ইট। কম খাই কিন্তু খাই।’

‘হ্যা হ্যা কত কী খাও সেটা কি আর আমি জানি না।’

ইরিন আর কিছু না বলে চুপ করে রইল।

‘আমাদের সেটেলমেন্টটা হয়ে গেলেই আমি তোমাকে আমার কাষ্টডিতে নিয়ে আসব। রজার্স একটু ব্যাড টেম্পার্ড মানুষ এটা ঠিক কিন্তু তোমার বাবার মতো অবিবেচক নয়। এজ এ প্যারেন্ট, হি উইল বি মাচ বেটার চয়েস।’

ইরিন হাঁটা থামিয়ে দিল। হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে যাওয়ায় এলিনা একটু অবাক হলো। সেও দাঁড়িয়ে পরল। ইরিন শীতল চোখে তাকাল এলিনার দিকে। ‘আমি বাবার সংগেই ভাল আছি। ডোন্ট ওরি এবাউট মি।’ বলেই সে হাঁটা শুরু করল আবার।

এলিনা পিছন থেকে বলল, ‘তুমি মোটেই ভাল নেই। আমি তোমাকে নিয়ে অনেক কনসার্নড। আমার কানে কিছু কথাও এসেছে। আই’ম রিয়েলি ওরিড এবাউট ইউ ইরিন।’

ইরিন আবার দাঁড়িয়ে পড়ল। এলিনা তার কাছে আসতেই সে বলল, ‘কী শুনছ তুমি?’

‘ইউ নো দ্যাট বেটার যা শুনেছি তাতে যে কোনো প্যারেন্টসদেরই কনসার্নড হবার কথা।’

‘দেন কাম ব্যাক এণ্ড টেক কেয়ার অফ মি। তুমি ফিরে আসো তখন দেখবে আমি ভাল হয়ে গেছি।’

‘দ্যাট’স নট পসিবল এখনতো আর সম্ভব না।’

‘হোয়াই নট?’

‘সেটা তোমাকে এখন বোঝানো যাবে না। যখন বড় হবে তখন বুঝবে।’

‘কেন? আমি বড় হইনি? ইউ থিঙ্ক আই’ম নট ওল্ড এনাফ ইয়েট? ইউ হ্যাভ লেফট হোম ফর ওয়ান ইয়ার এণ্ড ওয়ান ইয়ার ইজ অ্যা লং টাইম মাম। ইউ হ্যাভ নো আইডিয়া হোয়াট আই হ্যাভ বীন থ্রু এণ্ড হাউ মাচ আই হ্যাভ চেঞ্জড।’

এলিনা অবাক হয়ে ইরিনের দিকে তাকিয়ে রইল।


লিকার বারে বসে রজার্স ড্রিঙ্ক করেই চলেছে। একটা শেষ হতে না হতেই ইমরানও একটার পর একটা হার্ড লিকার পরিবেশন করে যাচ্ছে তাকে। অনেকক্ষণ থেকেই রজার্স চুপচাপ গ্লাসে চুমুক দিয়ে যাচ্ছে। একপর্যায়ে নীরবতা ভেঙ্গে ইমরান বলল, ‘সো হাউ লং ইউ হ্যাভ বীন ইন মডেলিং বিজনেস রজার্স?’

‘ওহ, দিজ উড বি মাই ফার্স্ট জব এজ এ ট্রেইনার। বাট আই ইউজড টু বি এ মডেল ফর সেভারেল ইয়ার্স। আই হ্যাভ গুড হলিউড কানেকশন টু…’

‘আই সি। দ্যাট’স হাউ ইউ মিট দ্য মডেল গার্লস এণ্ড…’ কথা শেষ না করে ইমরান থেমে গেল।

‘এণ্ড?’ প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে ইমরানের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল রজার্স।

ইমরান কিছু না বলে আর একটি হুইস্কির গ্লাস এগিয়ে দিল রজার্সের দিকে।

রজার্স বলল, ‘থ্যাঙ্ক ইউ।’ একটু থেমে গ্লাসে একটা চুমুক দিয়ে সে বলল, ‘আই নো ইউ আর ম্যাড এট মি। বাট ট্রাস্ট মি এনিবডি উড হ্যাভ টেকেন হার,শী ইজ ট্যালেন্টেড বিসাইডস বিং বিউটিফুল এণ্ড শী শুড এক্সপ্লোর হারসেল্ফ। আই’ম জাস্ট গাইডিং হার। শী নিডেড সামওয়ান লাইক মি ইন হার লাইফ।’

রজার্স ঘোরের মধ্যে আছে। ইতিমধ্যেই সে চূড়ান্ত রকমের মাতাল হয়ে পড়েছে। যদিও সে যথেষ্ট স্থির এখনো। হুইস্কির গ্লাসে আর একটা চুমুক দিয়ে সে যেন ইচ্ছাকৃত ভাবেই ইমরানকে আঘাত করে বলল, ‘নট অনলি ফর হার ক্যারিয়ার শী অলসো নিড মি ফর এনাদার রিজন টু। ইউ নো হোয়াট আই মিন?’ বলেই সে খ্যাক খ্যাক করে বিচ্ছিরি ভাবে হাসল গায়ে জ্বালা ধরা হাসি।

ইমরান শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল রজার্সের দিকে। ধীরে ধীরে তার চেহারা বদলে অন্যরকম হয়ে গেল। কেমন যেন অচেনা। চোখের দৃষ্টি স্থির কিন্তু জ্বলন্ত। ক্ষুধার্ত বাঘের মত হিংস্র।

ফরহাদ হোসেন
লেখক-নির্মাতা
ডালাস,টেক্সাস