কন্যা জীবন চাইবে কে আর!

ঝড়ের এক নির্ঘুম রাতে ডাল আর পাতার বাঁচার লড়াই,
ঘরের ভেতর এক নবজাতকের পৃথিবী দেখার নানা আয়োজন;
নানা কসরত।
না থেমেই ঝড় নবজাতক এলো।
বাবার মুখে বিজয়ের হাসি, কন্যা এসেছে ঘর আলো করে।
যেন জান্নাতের সুবাস দোলাচ্ছে মন, বাড়ির উঠোন।
পিদিম আলোয় প্রাণ পেয়ে গেছে মায়ের চোখের ফোঁটা ফোঁটা জল।
ছেলে ছিল চাওয়া—
হায়েনাদের রাজ্যে সবারই সিংহ চাওয়া,
হরিণ কে চায়!
পেলেপুষে যদি তুলে দিতে হবে হায়েনার মুখে,
হরিণ কে চায়?
এটা ‘যেখানে বাঘের ভয়’ নামক প্রবাদের নাম হয়ে গেছে।
সাক্ষাৎ পরি যেন উঠছে বেড়ে খড়ের গাদায়।
আলো কি আর ঢেকে রাখা যায়?
ষোড়শী পরি কাঁপন জাগায় পাড়াময় সব হায়েনার বুকে।
সেই থেকে পরি ‘মদিরা’ এখানে।
গলা ভেজানোর সাধ তো হবেই।
যেন পুরোনো আফিমে মাতাল সবাই, মত্ত সবাই পরির রূপে।
এরপর এক সকাল বেলায় ধানের ক্ষেতে কাকের নাচন।
বোধকরি, কুকুরেরও তবু মায়া আছে বুঝি; কাছে গিয়েও দূরে সরে যায়।
পাড়ার সবাই ভিড় করে গেছে, বন্ধ মুখে কথা চক্ষু বলে;
নির্বাক কথা বুঝবেই কে!
রক্তে পরির মাখামাখি গা, গতর খোদাই হিংস্র থাবায়।
রূপ যে কারো কাল হয়ে যায়, তার এক নজির পরির জীবন।
হায়েনার এই অবাধ ভূমে কন্যা জীবন চাইবে কে আর!

ফরহাদ ইবনে মালেক