কষ্ট!

একজন স্বাস্থ্যবতী মেয়েকে স্লিম সোসাইটির মহিলাদের টিটকারী শুনতে হয়!

আজকাল পার্টি, প্রোগ্রামে স্বাস্থ্যবতী মেয়ে কিংবা মহিলারা তাদের স্বজাতির দ্বারা যে পরিমান টিটকারী আর চক্ষুক্ষেপনাস্ত্রের স্বীকার হন তা কোন বখাটের ইভটিজিংয়ের চেয়ে কম না!

এ টিটকারী এখন অসহ্যরকম পর্যায়ে চলে গিয়েছে!

ধরে নিন,গতকাল রাতে এরকম টিটকারী শুনে একজন মেয়ে সুইসাইড করেছে!

এবং সে ধরনের ধারণা থেকেই লিখেছিলাম “কষ্ট ” নামক ইশারা। লেখাটি ছিল এমন :

*মেয়েটার বেশ ওজন।

*সারারাত ফ্যানটার বোধহয় খুব কষ্ট হয়েছে।

উপমহাদেশীয় মেয়েদের শারীরিক কাঠামো আলাদা। আমাদের আবহাওয়া, খাদ্যের প্রাপ্যতা, মাটি, বাতাস, ফল, জল, জীবনাচরণ, জিন, পারিবারিক রীতিনীতি সব মিলেই তৈরি হয় আমাদের শারীরিক কাঠামো!

উপমহাদেশীয় মেয়েদের মাঝারি উচ্চতা, হাড় মোটা, মেঘকালো চুল, একটু স্থূলতা,কালো চোখ থাকে। এখানকার মেয়েরা কর্মঠ হয়, সহ্যক্ষম হয়, গোছালো হয়,সন্তান জন্মদানে তুলনামূলক বেশি সক্ষম হয় । আর এ বৈশিষ্টগুলোই উপমহাদেশীয় নারীদের সৌন্দর্য।

সত্য বলতে কী, অনেক উপমহাদেশীয় স্বাস্থ্যবতী নারীর শরীরের ; শুধু হাড়ের ওজন যা, তা এন্জেলিনা জোলির মোট ওজনের সমান। এখন সে সকল স্বাস্থ্যবতী মেয়ের এন্জেলিনা জোলির মতো হতে চাওয়া কিংবা মেয়েটিকে এন্জেলিনা জোলির মতো বানাতে হলে তো তাকে স্রেফ, কঙ্কাল বানাতে হবে!

ব্যাপারটা কী উদ্ভট নয়?

একবার একটি কথা শুনেছিলাম। কথাটা সত্য না মিথ্যা, তা ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা ভ্লাদিমির পুতিন বলতে পারবেন। কথাটা ছিল এমন, একটি মেয়ে স্লিম হতে হতে এমন পর্যায়ে গিয়েছিলেন যে, ওনাকে গেন্জির পেছনে লিখতে হয়েছিল ব্যাক সাইড আর সামনে লিখতে হয়েছিল ফ্রন্ট সাইড!

কী হাস্যকর ব্যাপার!

চারিদিকে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে বটে, তবে যদি প্রশ্ন করি আগামীর চ্যালেন্জ মোকাবিলায় শারীরিক ভাবে নারী কতোটুকু প্রস্তুত? নারীরা তাদের কন্যা সন্তানককে কতোটুকু প্রস্তুত করছে ?

মানসিক এবং শারীরিক ভাবে একজন নারী যতো শক্তিশালী হবেন তিনি ততো এগিয়ে যাবেন। সমাজ ব্যবস্থায় তার অবদান স্বীকার্য হবে।

নিজেকে সবদিক থেকে পরিপুষ্ট রাখুন। সুস্থ রাখুন নিজেকে। অযথা অপুষ্টিতে ভুগবেন না।

আপনি যখন উপমহাদেশের মেয়ে , তখন আপনার নিজস্ব জীবন ব্যবস্থায় আপনি যেভাবে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন সেভাবেই থাকুন। এ সৌন্দর্য শুধু আপনার, একান্তই আপনার।

অনেকে ভাবছেন, আমি স্লিম হতে নিষেধ করছি। না, আমি সেটা করছি না। আমি শুধু বলতে চাচ্ছি, জীবনাচরণ অনুযায়ী নিজস্বতা বজায় রেখে, শারীরিক এবং মানসিক ভাবে নিজেকে সুস্থ রেখে আগামীর চ্যালেন্জ মোকাবেলায় নিজেকে প্রস্তুত রাখুন।

যিনি স্লিম থেকে মজা পাচ্ছেন, মজা করুন। যিনি স্বাস্থ্যবতী তাকে কটাক্ষ করবেন না।

অন্ধ অনুকরণ কখনোই ভাল কিছু বয়ে আনেনা।

নিজস্ব সৌন্দর্যে নিজেকে আত্নবিশ্বাসী রাখুন।

-খায়রুল ইসলাম নিয়ন