চেয়েছি যে বিজয়

যে বিজয় চেয়েছি তা অনেক দূর
তবুও শান্তি এই- ভিনদেশী শুয়োরদের ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত হয়েছে স্বদেশ।
মাথা তুলে দাঁড়াতে শিখেছি আমরা
পৃথিবীর বুকে চিহ্ন এঁকে দিচ্ছি একে একে।
যদিও শুধু এ চিহ্ন আঁকতে চাইনি বিজয়
চাওয়া ছিল আরো অনেক কিছু
অনেক স্বপ্ন, আরো অনেক আকাঙ্ক্ষায় পরিপূর্ণ ছিল আমাদের হৃদয়।
দলমত নির্বিশেষে আমরা চেয়েছি মুক্তি।
বিজয় চেয়েছি ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে
নৃশংসতার বিরুদ্ধে চেয়েছি বিজয়
শোষকের মুখ সকল একই রকম
এইসব মুখের কড়াল গ্রাস থেকে বাঁচতে চেয়েছি।
একটু চেয়েছি মাথা গোঁজবার ঠাঁই
দু’বেলা দু’মুঠো ভাত, আর গায়ে জড়াবার জন্য এক টুকরো কাপড়
মনের কথাগুলো যেন নির্ভয়ে বলতে পারি
কারো হাত যেন এসে গলা চিপে না ধরে- এই তো চেয়েছি বিজয়ে।
প্রাণের সংহার চাইনি, প্রাণের জয় চেয়েছি
ভয় চাইনি, সামনে এগোতে চেয়েছি দুর্দম
ভিনদেশি শোষকেরা যেদিন বিদায় নিলো, সেইদিন থেকে আর কোনো খুন চাইনি
জুলুম নির্যাতন চাইনি, আর একজন শরিফাও ধর্ষিত না হোক স্বাধীন দেশের মুক্ত আঙিনায়
তাই তো চেয়েছি বিজয়ে।
চেয়েছি ভাত ও তাঁতের অধিকার
বলার ও শোনার অধিকার
বেঁচে থাকার ও সুষ্ঠুভাবে মরে যাওয়ার অধিকার চেয়েছি।
শত দলে বিভক্ত হতে চাইনি
পক্ষে বিপক্ষে হানাহানি চাইনি
রাত দুপুরে গুম হয়ে যেতে চাইনি
ভালোবাসায় মাখামাখি হৃদয়ে একটু ঠাঁই পেতে চেয়েছি।
চেয়েছি বিজয় এনে দেবে মুক্তি
সকল শোষণ, সকল তোষণ
সব জালিমের দম্ভ ভূষণ চূর্ণ হোক- তাই চেয়েছি
আর চেয়েছি মানুষ, সকলের উর্দ্ধে স্থান হোক মানুষের
মানুষের জন্যই হোক এই দেশ, এই মাটি, এই পতাকা- এই তো চেয়েছি।
অথচ চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে কী বিস্তর ফারাক!

রবিউল করিম মৃদুল