জবাব

পাশের বাড়িতে বিয়ে।সাউন্ড সিস্টেম আর আতশবাজির শব্দ যতটা না আমাকে যন্ত্রণা দিচ্ছে তার চেয়ে বেশি যন্ত্রণা দিচ্ছে মৈত্রীকে হারানোটা। আজ পাকাপোক্তভাবে আমি মৈত্রীকে হারিয়ে ফেলতে যাচ্ছি। গতকাল পর্যন্তও আমি বিশ্বাস করে উঠতে পারিনি যে মৈত্রী সত্যিই আমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করতে চলেছে, আমি ভেবেছি বিয়ের দিন হলেও মৈত্রী আমাকে ডাকবে, একবারের জন্য হলেও ডাকবে। কিন্তু না মৈত্রী আমাকে ডাকেনি, আমার বিশ্বাস ছিল আমার জন্য মৈত্রীর ভালবাসা অনেক প্রগাঢ় তাই সে কখনো আমাকে ছেড়ে অন্য কারোর ঘরনী হতে চাইবেনা।শেষ পর্যন্ত সে লড়ে যাবে বলে আমাকে কথা দিয়েছিল। কিন্তু সে কিছু করেনি, করেনি বলেই আজ তার বিয়ে।গতকাল তার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান মহা ধুমধামে সম্পন্ন হয়েছে। উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে ডিজে গানে নাচানাচি, আতশবাজি আরও কত সোরগোল।আত্মীয় স্বজনে পুরো বাড়িতে যেন এক হৈ হৈ রৈ রৈ ব্যাপার। ডেকোরেটরের হাঁড়ি পাতিল ঠাসঠুস আওয়াজও কানে বাজছে।আমার বাড়িতে বসে সে আওয়াজ আমি দিব্যি শুনতে পাচ্ছি। আমার দুতলা বাড়ির একদম উত্তরের কোণের রুমটা আমার। মৈত্রীকে যেন নির্বিঘ্নে দেখতে পাই সেজন্যই সে রুমটা আমি নিয়েছিলাম। আমাদের প্রণয়ের দিনগুলোতে দুজনের চোখাচোখি, বারবার আমার প্রেয়সীকে দেখার সাক্ষী আমার এ রুমের জানালাটা। সে জানালা দিয়েই এক নজর তাকিয়ে দেখেছি তার বিয়ের কুঞ্জটা। আমি একবারের জন্যও জানালা দিয়ে তাকানোর সাহস পাচ্ছিলাম না। অনেক দুঃসাহস নিয়ে একবার দেখলাম মৈত্রীর বিয়ের কুঞ্জটা কি তার পছন্দে সেই তার কল্পনা মত সাজানো হয়েছে কিনা? এক বুক দুঃখ নিয়ে কুঞ্জটাকে অবলোকন করে বুঝলাম মৈত্রী আমাকে আর ডাকবে না। এ বিয়েতে মৈত্রীর যে কোন আপত্তি নেই তা কুঞ্জ সাজানো দেখেই আমি নিশ্চিত হয়ে গেলাম।

বুকের ভেতর হৃদয়টাতে একটা অসহ্য জ্বালা হচ্ছে, অন্তরটা যেন জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে আর দুচোখে বইছে অঝোর ধারা। আমি কখনো চোখের জল ফেলিনি, সবসময় ভাবতাম আমি পুরুষমানুষ, পুরুষরা কখনো কাঁদে কি? হৃদয়ে যত যন্ত্রণাই হোক পুরুষরা সহজে কাঁদেনা। আজ আমি কাঁদছি, নিঃশব্দে কাঁদছি। মা বৌদি বলেছিল মৈত্রীর বিয়ের সময় আমি যেন পিসির বাড়িতে চলে যাই কিন্তু আমি রাজি হইনি। আমি যে আশায় ছিলাম,মৈত্রীর ভালবাসার ডাকের অপেক্ষায় ছিলাম। গতপরশু পর্যন্তও যে মৈত্রী আমাকে না দেখে থাকতে পারতো না সে কি করে আমাকে ছেড়ে সারাজীবন থাকবে? মৈত্রী কি আমার মত ভেবেছে?
মৈত্রী কি ভাবছে সেটা জানার জন্য আমাকে একবার খোঁজ নিতেই হবে,সে বলেছিল বিয়ের রাতে হলেও আমার কাছে চলে আসবে, যদিও আমি চাইনা সে এভাবে আমার কাছে আসুক কিন্তু সে নিজে কি কোন চেষ্টা করেছে? চার ভাইয়ের আদরের বোন মৈত্রী চুপচাপ মেঝভাইয়ের কলিগের পরিচিতএক ব্যাংকার পাত্রকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছে।আমার মত শিক্ষিত বেকারের কাছে তারা বোনকে বিয়ে দিবে?

শীতের রাতে প্রচন্ড ঠান্ডাতেও আমি ঘামছি। ফ্যানের সুইচ অন করে নিজেকে শীতল রাখার পাশাপাশি সানাইয়ের শব্দটাও কানের কাছে খানিকটা ক্ষীণ হচ্ছে।

পাশের বাসার ক্লাস নাইনে পড়া মৈত্রীকে কখনোই ভিন্ন নজরে দেখতাম না। তখন আমি অনার্সে সবে ভর্তি হয়েছি, কোন মেয়ের সাথে প্রেম করবো এমন চিন্তাও মাথায় আসেনি। তবে মনটা সবসময় উড়ু উড়ু করতো,কি যেন একটা চাই চাই করতো । মৈত্রীকে ছোট থেকেই দেখেছি, প্রতিবেশী এক কাকার মেয়ে। আমাকে নবীন দা বলেই ডাকতো। ছোট বেলা তাকে তুই করে ডাকলেও বয়ঃসন্ধিতে এসে আচমকা তাকে তুই বলতে কোথাও যেন বাঁধতো আমার। সেই থেকে তাকে তুমি বলেই ডাকতাম।

পাড়ার সরস্বতীপূজাতে হলুদ শাড়িতে কাঁচা হলুদে স্নান করা মৈত্রীর চুল থেকে টপাটপ জলের ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছিল। শাড়ির সুতায় লেগে মৈত্রীর নুপূরটা ছিঁড়ে পড়ে যায়। নুপূরটা কুঁড়িয়ে পাই আমি, সেটা দেখাই আমার ছোটবোন নিমাকে। নিমা দেখেই বলে দিয়েছে এটা মৈত্রীর নূপুর। নিমা নূপুরটা আমার থেকে নিতে চেয়েছিল মৈত্রীকে ফেরত দিতে কিন্তু আমি দেইনি, “তোকে নিতে হবেনা,আমিই মৈত্রীকে দিয়ে দিব।”ঠাকুর মশাই পূজো শুরু করেছেন, আমি নূপুরটা হাতে নিয়ে মৈত্রীর পা টা কল্পনা করছিলাম। এ প্রথম আমার ভিতরে একটা শিহরণ বয়ে গেল।নূপুরটা দিতে গিয়ে এ প্রথম আমি দেখলাম মৈত্রীর চোখ দুটি ভিন্ন কথা বলছে,বাঁকা ঠোঁটে হাসি হেসে মৈত্রী আমার থেকে নূপুরটা ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।লাজুক লাজুক দুটি চোখে সে আড়ালে চলে যায়। অঞ্জলী দেয়ার সময় মৈত্রী আমাকে বারবার আড়চোখে দেখছিল। আমি হঠাৎ করে মৈত্রীর মধ্যে এতটা পরিবর্তন দেখছি, যেমনটা আমি ভাবছিলাম তেমনটা কি মৈত্রীও ভাবছিল?

হ্যাঁ মৈত্রীই প্রথম আমাকে ভালবাসার স্বপ্ন দেখিয়েছিলো। বাবার কিনে দেয়া নোকিয়া ফোনটাততে হঠাৎ হঠাৎ করেই মিসকল আসতে শুরু করেছিল একটা নাম্বার থেকে। সারাদিনে একটা দুইটা তারপর চারটা পাঁচটা আর ধীরে ধীরে সেটা ত্রিশ চল্লিশ পঞ্চাশটা মিসডকল। কলব্যাক করলে কথা বলেনা, মাঝে মাঝে হাসে। এভাবে কিছুদিন যেতে যেতে একদিন মিষ্টি গলায় মেয়েটি আমায় বলে, “ভালোবাসি। ” সে মেয়েটিই ছিল মৈত্রী।

বাসা ছেড়ে শহরে মেসে থেকে পড়াশোনা করতে হলে মৈত্রীকে দেখতে পাবোনা। সে বয়সে অনেক বেশি আবেগ কাজ করতো, মৈত্রীকে চোখের আড়াল করার কষ্ট, তাকে হারানোর ভয় সবসময় কাজ করতো তাই মেস থেকে বাসায় ফিরে আসলাম। যাতায়াত সহজলভ্য বলে এখান থেকেই কলেজে ক্লাস করে বিকেলে প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফিরে আসতাম। এভাবেই গণিতে মাস্টার্স কমপ্লিট করে পাড়ায় টিউশন করে আমি হাজার দশেক টাকা প্রতিমাসে ইনকাম করতে পারছিলাম। চাকরির চেষ্টা করেছি তবে সেটা পর্যাপ্ত নয়। রাত জেগে দুজনে কথা বলা, জানালা খুলে দুজন দুজনের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকা সব কিছু আমার গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোকে কিভাবে নষ্ট করছিল ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি আমি।মৈত্রী অনার্সে ভর্তি হতেই বিপত্তি জাগলো তার বিয়ে নিয়ে। মৈত্রী আমাকে প্রেসার দিতে লাগলো বাড়িতে বিয়ের কথা বলতে। তার বারংবার পীড়াপীড়িতে আমি লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে বড়বৌদি আর দাদাভাইকে মৈত্রীকে বিয়ে করতে চাই বলে জানিয়ে দিলাম। সেদিনই আমি প্রথম এক বাস্তবতার মুখোমুখি হলাম।

চাকরির প্রস্তুতির প্রতি আমার উদাসীনতা দেখে দাদাভাই সবসময় উদ্বেগ প্রকাশ করতেন, তিনি কয়েকবার কয়েকজনকে ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয়ার ব্যবস্থাও করেছিলেন কিন্তু পার্টিদের শর্ত ছিল আমাকে রিটেনে এলাও হতে হবে কিন্তু আমি রিটেনেই এলাও হতে পারতাম না। তাই আজ শিক্ষিত বেকার আর সামান্য টিউশন টিচার হয়ে আছি। মৈত্রীকে বিয়ে করার কথা বলতেই আমার কলেজের প্রভাষক দাদা বললেন,”বেকার ছেলের জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাব, মৈত্রীর ভাই তোর কাছে বিয়ে দিবে? ” তবুও বৌদির অনুরোধে দাদাভাই মৈত্রীর বড় দাদার সাথে আমাদের সম্পর্কের কথা তুলেন।মৈত্রীদের বাড়িতে সবাই জানে তার আমার প্রেমের গপ্প কিন্তু তারা সেটা মানতে নারাজ। দাদাভাই বিয়ের প্রস্তাব রাখতে গেলে সেদিন মৈত্রীর মা আমার দাদাভাইকে কত কথা শুনিয়ে দিয়েছিল।

বাড়িটা ছাড়া আমাদের আর কোন সহায় সম্পদ ছিলনা। দাদাভাইকে ছাড়া আমার যে কোন ভিত্তিপ্রস্তর নেই সেটাও তারা জানিয়ে দিয়েছিল। আমাকে বেকার বলে অপমান করলে দাদাভাই মাথা নিচু করে চলে আসে। সবকিছু জানতে পেরে অপমান আর গঞ্জণায় সেদিন সারারাত বাসায় ফিরিনি। মৈত্রী তখনো আমাকে আশার আলো দেখিয়ে যাচ্ছিলো কিন্তু আদতে সে তার ভাইদের পছন্দ করা ব্যাংকার পাত্র নিয়ে মনে মনে খুশিই হয়ে গেল। মৈত্রীকে সেদিন পাশের বাড়ির পিসিমা বিয়ের কথা জিজ্ঞেস করলে সে আহ্লাদে গদগদ হয়ে বলে তার হবু বর ব্যাংকার।
তবুও মৈত্রী উপরে উপরে আমার সাথে অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছিল। হ্যাঁ সেটা অভিনয়ই বটে।

হঠাৎ করে কারেন্ট চলে যেতেই শুনলাম মৈত্রীদের বাড়িতে সানাইয়ের সুর বন্ধ, একটা চাপা গুঞ্জন উঠেছে ওদের বাড়িতে। কি গুঞ্জন উঠেছে? তাহলে কি মৈত্রী….?
নাহ্ আমি একটু বেশিই ভেবে ফেলছি,আমি অল্পতেই বেশি ভেবে নেয়ার রোগে ভুগছি অনেক বছর ধরে। বৌদি আমার রুমের দরজা কিছুতেই লক করতে দিচ্ছেন না, তিনি বারবার আমার রুমে ঢুঁ মারছেন। আমি যে অতিআবেগপ্রবণ সেটা আমার বৌদি অনেক ভাল বোঝেন তাই আমি যাতে কোন ভুল সিদ্ধান্ত না নিই সেজন্য আমাকে অনেক বুঝিয়েছেন। বৌদিকে বলেছি, “বৌদি তুমি এত ভেবো না, আমি ঠিক আছি তো।” আসলেই কতটা ঠিক থাকতে পারছি? মহল্লাবাসী হয়ে প্রতিবেশীর বিয়ের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে বুদ্ধি করে আমি বৌদিকেই যেতে বললাম। যাওয়ার সময় বৌদির পায়ে ধরে বললাম, মৈত্রীর সাথে যেন একান্তে একটু কথা বলে যেন জেনে নেয় মৈত্রী কি ভাবছে? বৌদি বাড়ি ফিরে আমাকে কিছু বলেনি তবে ক্লাস থ্রিতে পড়া আমার ভাতিজি আমাকে সবকিছু বলে দেয়।

এতক্ষণে বিয়ে বাড়ির গুঞ্জনটা আরেকটু গাঢ় হয়েছে। রাত ১:৩০ বাজে অথচ এখনো বিয়ে শুরু হয়নি। ১০টায় বিয়ে শুরুর ক
কথা।! তবে কি মৈত্রী পালিয়েছে? বৌদি আমাকে দেখে যেতে এসেছে,
— বিয়ে বাড়ি নিরব কেন, বৌদি?
— বিয়ে হয় কিনা সন্দেহ আছে, নবীন।
— কেন? কি হয়েছে?আমার মৈত্রী কি কিছু করেছে?তখনি আমার মনের আশার প্রদীপটা আবার দপ করে জ্বলে উঠলো যেন।
— তোমার মৈত্রী আবার কি করবে? সে তো দুপুরে আমাকে বলেছে বেকার ছেলের ঘরে কি না খেয়ে থাকবে? আবেগে গা ভাসিয়ে তো জীবন চলবে না। আরও বলেছে টিউশনের টাকা…..
—থাক বৌদি আর বলো না। ত্রয়ী মা আমাকে সব বলেছে। দাদাভাই আমাকে লাথি মেরে বের করে দিলে আমি নাকি না খেয়ে মরব।দুচোখ বেয়ে আবারো অশ্রুধারা ছুটে আমার। এ কোন মরীচিকার পিছনে ছুটে নিজের ক্যারিয়ার, আত্মসম্মান সব বিসর্জন দিলাম? এ কোন মৈত্রীর জন্য আমি একটু আগেও অপেক্ষা করছিলাম? ত্রয়ী মা যদি দুপুরের সবকিছু না বলতো তাহলে হয়ত আমি আমার আবেগেই ডুবে থাকতাম। আজও চোখ খুলতো না।নিঃশব্দে কনে বিদায় হচ্ছে!!কোন সানাই,বাজনা নেই। বাড়ির নিচে গেইটে দাঁড়িয়ে আছি মৈত্রীর মুখটা আরও একবার দেখব বলে।

কাল রাতের গল্পটা আরও ভিন্ন হতে পারতো কিন্তু আমি নিজেকে সিনেমার হিরো বানাতে চাইনি। দীর্ঘদিন পর খোলা চোখকে আমি আবার বন্ধ করতে চাইনি।

আমি রাতে দরজা বন্ধ না করে ঘুমাতে পারিনা , বৌদির কাছে অনেক প্রতিজ্ঞা টতিজ্ঞা করে দরজার লক আটকে একটু ঘুমাতে চেষ্টা করলাম কেননা বৌদি ভাবছে যদি আমি নিজের কোন ক্ষতি করে বসি! ঘুমাতে যেতেই চোখটা লেগে এসেছিল। হঠাৎ দরজায় সজোরে আঘাতের শব্দে সজাগ হয়ে বের হয়ে দেখি দরজায় দাঁড়িয়ে আছে মৈত্রীর দুই বড়লোক বড় ভাই,আমার দাদাভাই আর মা। মৈত্রীকে বিয়ে করতে যেতে হবে, বর আসেনি। একটা চিঠি লিখে রেখে সে তার প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়েছে। সন্ধ্যা থেকে বর নিখোঁজ, ফোন বন্ধ। বর আসেনি সে দায় কি আমার ছিল? যদি সে দায় আমার না হয় তাহলে মৈত্রীকে বিয়ে করার দায়ও আমার নয়। ওদের অনেক অনুরোধেও তখন আমি নিজেকে আবেগে ডুবতে দিইনি,ফিরিয়ে দিয়েছি মৈত্রীত্ব গ্রহণের অনুরোধ। আমি যে ফিরে পেতে চেয়েছি আমার আত্মসম্মান। বরের পিছু পিছু হেঁটে যেতে যেতে মৈত্রী আমার দিকে একবার তাকিয়ে নিলো। চোখে আর জল মনে হয় অবশিষ্ট নেই তাই আর কাঁদছে না, গতরাতে বিয়ের বর না আসাতে মৈত্রী নাকি অনেক কেঁদেছে। সবাই তার কান্নায় ব্যথিত হয়েছে। লোক দেখানো কান্না সবাই দেখে কিন্তু লোকচক্ষুর আড়ালে কান্না কেউ টেরও পায়না। মৈত্রীর ছোটদাদার বাউন্ডুলে শালার সাথেই ঘাঁটছড়া বেঁধে তার বিয়ে দেয়া হয়েছে। ছেলেটা ইন্টার পাশ করে বই খাতা কলমের ব্যবসা করতো এখন সেটাও নেই।

গলির মোড়ে দুইটা সিএনজি দাঁড়িয়ে আছে অনেকক্ষণ ধরে সম্ভবত ওটাতে করেই মৈত্রী শ্বশুর বাড়িতে যাবে। হ্যাঁ সিনএজিতে করেই মৈত্রী শ্বশুরবাড়ি গেল, আমার কোন যন্ত্রণাও নেই তাতে।।
চাকরির আবেদন করা আছে কয়েকটা, জোর কদমে পড়তে হবে। এবার চাকরি হতেই হবে।

-অরুন্ধতী অরু

ছবি কৃতজ্ঞতা-সাখাওয়াত তমাল