ডিনার ফর টু ( ৫ম পর্ব )

‘Oh shit!’ ৩৫০ ডিগ্রী তাপমাত্রার ওভেনের ভেতর হাত ঢুকিয়ে গরমে ছ্যাকা খেয়ে মুখ ফসকে বলে ফেলল হাসান। ওপাশ থেকে অপলা বলল, ‘কী হলো? Is something wrong?’ অপলার কথা হাসানের কানে গেল না। সে তখনো তাকিয়ে আছে রুবেলের দিকে—অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে। এই ছেলেটার কী কোনো কমনসেন্স নাই? ‘Are you alright?’ অপলা আবার জিজ্ঞেস করল। ‘Yeah, I’m fine.’ কথা বলতে বলতে রুবেলকে হাতের ইশারায় চলে যেতে বলল হাসান। কিন্তু নাছোড়বান্দা রুবেল বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বোঝাল—চালিয়ে যান। হাসান খুবই বিরক্ত হলো। সে রুবেলকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে হাতে গ্লাভস পরে এলুমিনিয়াম ফয়েলে মোড়ানো গরম ট্রে-টা বের করে নিয়ে ডাইনিং টেবিলে রাখল। ধীরে ধীরে কাভারটা খুলে বলল, ‘Here you go. Surprise!’ ‘Lasagna! My favorite dish! Looks really good.’ অপলা উচ্ছসিত কণ্ঠে বলেই তাকাল হাসানের দিকে। ‘মনে রাখার জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ।’ ‘My pleasure.’ হাসান ট্রে থেকে বড় এক পিস লাজানিয়া তুলে দিল অপলার প্লেটে। অপলার দেরি সহ্য হলো না। সে কাটা-চামচ আর ছুঁড়ি নিয়ে কাঁটাকাঁটি শুরু করে দিল। তারপর মুখে দিয়ে একটু খেয়ে তাকাল হাসানের দিকে। হাসান নার্ভাস ভঙ্গিতে বলল, ‘অনেকদিন পর তোমার প্রিয় আইটেমটা করলাম। খেতে পারবে কিনা জানিনা। ভাল না লাগলে বলো—আমরা বাইরে গিয়ে খেয়ে নেব।’ ‘Umm, perfect! ভাল হয়েছে, হাসান।’ ‘সত্যি বলছ?’ ‘হুম। সত্যি।’ অপলা খুব তৃপ্তি করে খাচ্ছে। হাসান অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে অপলার দিকে। অপলার সেদিকে কোনো লক্ষ্য নেই। সে খেয়েই চলেছে। মাঝে মাঝে আবার এক সিপ শ্যাম্পেনও মুখে দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পর সে তাকাল হাসানের দিকে—দেখল, সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। অপলা একটু লজ্জা পেয়ে গেল। হাসান হেসে দিয়ে বলল, ‘খুব ভাল্লাগছে তোমাকে দেখে।’ ‘তাই? আর আমার খাওয়া দেখে কী মনে হচ্ছে—কতদিন না খেয়ে আছি?’ ‘আরে না না তা হতে যাবে কেন?’ শ্যাম্পেনে একটা চুমুক দিয়ে অপলা জিজ্ঞেস করল, ‘তারপর, তুমি কেমন আছো?’ ‘এইতো, আছি।’ হাসান মৃদু হেসে বলল। ‘এনি গার্লফ্রেণ্ড?’ প্রশ্নটা করে অপলা তাকিয়ে রইল হাসানের দিকে। ‘গার্লফ্রেণ্ড? আরে নাহ…’ হাসান অবাক হয়ে বলল। ‘না কেন?’ ‘আসলে মেয়েদের ব্যাপারে আমার ভাগ্যটা খুবই খারাপ। অবশ্য সেভাবে চেষ্টা করেও দেখা হয়নি।’ ‘তাহলে বিয়ে করছ না কেন? নাকি করবে না বলে ডিসিশন নিয়েছ?’ হাসান ঠিক বুঝতে পারল না, অপলা কেন এধরণের কথা বলছে। সেটা কী কথা পিঠে কথা নাকি ও সত্যি সত্যিই জানতে চায়। হাসান হাসি হাসি মুখ করে বলল, ‘আরে ধুর, এই বয়সে কে আর আমাকে বিয়ে করবে?’ ‘কী আর এমন বয়স হয়েছে তোমার? You’re still young, good looking, besides being an established businessman.’ এবার দুষ্টমি করে যোগ করল অপলা, ‘টাকা পয়সা নিশ্চয়ই ভালই বানিয়েছ! সেই সাথে, বিশালাকার বাড়ি, লেটেস্ট মডেলের গাড়ি, কী নেই তোমার। তোমার জন্যে মেয়ের অভাব? একবার দেশে গিয়েই দেখ না, মেয়ের সঙ্গে মায়েরাও লাইনে দাঁড়িয়ে যাবে।’ অপলার কথার ভঙ্গিতে উচ্চস্বরে হেসে ফেলল হাসান। ‘তুমি দেখি অনেক মজার কথা বলতে শিখেছ অপলা? তুমি বদলেও গেছ অনেক।’ ‘তাই? কী রকম?’ ‘এই যেমন, তুমি আগে চুপচাপ থাকতে—কথা বলতে কম। হাসতে না একেবারেই। আর এখন, কেমন যেন একটা চটপটে ভাব এসেছে তোমার মধ্যে। বেশ সাবলীল।’ ‘কথা আমি আগেও বলতাম। তবে নিজের সাথে—মনে মনে কত কথা বলতাম। তোমাকে পেতাম না, তাই কথাও হতো না। কথা বলার জন্যে একজন সঙ্গী তো চাই, তাইনা?’ মুহূর্তের মধ্যে হাসানের মুখ অন্ধকার হয়ে গেল। হাসানের এই পরিবর্তনটা অপলার চোখ এড়াল না। একটু থেমে সে বলল, ‘তাছাড়া, দু’বছরতো আর কম সময় না, হাসান। একজন মানুষের বদলে যাবার জন্যে যথেষ্ট।’ এরপরে আর কেউ কোনো কথা বলল না। চুপচাপ খেয়ে চলল দুজনে—শুধু চামচের টুংটাং শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দই শোনা গেল না। হাসান লক্ষ্য করল অপলার প্লেট খালি হয়ে এসেছে। সে আগ্রহ নিয়ে বলল, ‘আরেকটু তুলে দেই?’ ‘Oh no! I’m full.’ ‘ঠিক আছে, তুমি লিভিং রুমে গিয়ে বসো, আমি এগুলো ক্লিন করে আসছি।’ ‘এখন ক্লিন করতে হবে না। তুমি এসো অনেক কথা জমে আছে।’ বলেই অপলা উঠে দাঁড়াল। একহাতে শ্যাম্পেন গ্লাস ধরে অন্য হাত বাড়িয়ে দিল হাসানের দিকে। হাসান হেসে দিয়ে ধরল অপলার হাত। অপলা তাকে প্রায় টেনেই নিয়ে গেল লিভিং রুমে। তারপর বসল সোফাতে। প্রচণ্ড ভাললাগায় বুঁদ হয়ে রইল হাসান—অনেকদিন পর যেন জীবন ফিরে পেয়েছে। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল, ঠিক এই মুহূর্ত থেকে অপলা যা যা বলবে সে তাই তাই করবে। এখন থেকে জাহাজের ক্যাপ্টেন সেই—সে যেভাবে নেভিগেট করবে, সেভাবেই চলবে।

অপলারও ভাল লাগছে। অনেকদিন পর হাসানের কাছে এসে তার সঙ্গ সে উপভোগ করছে। সে চুপচাপ বসে রইল কিছুক্ষণ। এক ধরণের নীরবতায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে—তবে ভাললাগার রেশটুকু ছড়িয়ে আছে চারিদিকে। নীরবতা ভাঙ্গার জন্যেই হাসান বলল, ‘মুভি দেখবে? একটা মুভি ছেড়ে দেই?’ হাসানের লিভিং রুমের দেয়াল জুড়ে সিনেমা দেখার পর্দা লাগানো। উপরে প্রজেক্টর থেকে মুভি দেখতে বেশ ভালই লাগে। কিন্তু মুভি দেখার কোনো আগ্রহ অপলার মধ্যে দেখা গেল না। সে বরং উল্টো বলল, ‘আমি এক হাজার মাইল ফ্লাই করে এসেছি কি এখানে বসে মুভি দেখার জন্যে?’ হাসান হেসে ফেলল। আর কী বলা যায় সে ভেবে পেল না। হঠাৎ তার মনে হলে। অপলাকে একটা ধন্যবাদ তো দিতে পারে—তার এত প্রশংসা করল। হাসান বলল, ‘বাই দ্য ওয়ে, থ্যাঙ্কস ফর দ্য কমপ্লিমেন্ট!’ ‘কমপ্লিমেন্ট!’ ভ্রূ কুঁচকে অপলা তাকাল হাসানের দিকে। ’ঐ যে বললে, আমি এখনও ইয়ং, গুড লুকিং…’ হাসানের মুখে লজ্জার হাসি। ‘শুধু তাই নয়, ইয়্যু আর সো সুইট, ইউ নো দ্যাট রাইট?’ হাসানের মুখের হাসি বিস্তৃত হলো। সে বলল, ‘থ্যাঙ্ক ইউ!’ অপলা হঠাৎ করেই হাসানের একটি হাত তার হাতের মধ্যে এনে কিছুক্ষণ ধরে রাখল। তারপর বলল, ‘একটা কথা জিজ্ঞেস করি?’ ‘করো।’ ‘এখন তো তোমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আর ইউ হ্যাপি নাউ?’ হাসান চুপ করে রইল। সে একটু অন্যমনস্ক হয়ে গেল। তার মনে পড়ে গেল অপলার সেই কথা গুলো। অপলা বলেছিল, একদিন তোমার অনেক টাকা হবে। স্বপ্নের বাড়ি হবে, গাড়ি হবে ঠিকই, কিন্তু যার বা যাদের কথা ভেবে এগুলো করছ, তারা হয়ত কেউ থাকবে না তোমার পাশে। অপলা আবারো জানতে চাইল, ‘কি বললে না? হাসান অস্ফুটে বলল, ‘কী?’ ‘তুমি কি এখন সুখী?’ হাসান সুখী কিনা তার উত্তর না দিয়ে সে বলল, ‘আমি ভীষণ একা, অপলা। আমার ভীষণ কষ্ট।’ ‘একা থাকছ কেন? একজন সঙ্গী জোগাড় করে নাও।’ ‘আমি আসলে অপেক্ষায় ছিলাম—এখনো আছি।’ ‘কিসের অপেক্ষা?’ ‘তোমার ফিরে আসার।’ একটু থেমে হাঁসান আবার বলল, ‘ভেবেছিলাম, তুমি ফিরে আসবে। যখন তোমার চিঠি পেলাম, তখন ভীষণ মুষড়ে পড়েছিলাম। খুবই কষ্ট হয়েছিল।’ অপলা চুপ করে রইল। কী বলবে ভেবে পেল না। চারিদিকে নীরবতা—দুজনেই যেন নিবিড় ভাবনায় আচ্ছন্ন। হঠাৎ করেই দরজায় টোকা পড়ল। ঠক ঠক ঠক। ছেদ পড়ল নিবিড় ভাবনায়। হাসান দরজার দিকে চিন্তিত ভঙ্গিতে তাকাল। দরজায় টোকা বেজেই চলেছে। হাসান অপলার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এক মিনিট, আমি দেখছি।’

দরজা খুলে হাসানের মাথায় রক্ত উঠে গেল। সবগুলো দাঁত বের করে দাঁড়িয়ে আছে রুবেল। হাসান নিজেকে চেষ্টা করেও স্থির রাখতে পারল না। ‘তুমি এখনো ঘুর ঘুর করছ কেন?’ হাসান তার গলার স্বর যথেষ্ট নিচু করে চাপা কিন্তু রাগান্বিত কণ্ঠে বলল। ‘হাসান ভাই, সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা তার খোঁজ নিতে আসলাম।’ ‘সবকিছু ঠিক আছে। তুমি এখন যাও।’ ‘আপনিতো মনে হয় এখনো আসল কথাটাই বলতে পারেন নাই। আসল কাজ তো দূরে থাক।’ ‘আর কিছু বলবে? নাহলে খোদা হাফেজ।’ ‘না বলেছিলাম কি, সারাক্ষণ তো আমার কাছে ঘ্যান ঘ্যান করেন—আই রিয়েলি লাভ হার, আই ক্যান’ট লিভ উইদাউট হার। আমার সব কিছুই সে, দরকার হলে আমার সারাজীবন অপেক্ষা করব। এইসব কথা কি তাকে বলছেন নাকি এখনো ভাবতেছেন?’ হাসান অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে চেয়ে রইল রুবেলের হাসি হাসি মুখের দিকে—কয়েক মুহূর্ত। ‘গুড নাইট রুবেল।’ বলেই সে দরজা বন্ধ করে দিল। হাসান ফিরে যেতেই অপলা জিজ্ঞেস করল, ‘কে এসেছিল?’ ‘রুবেল। ওর কথাতো তোমাকে বলাই হয়নি। হি ইজ অ্যান ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার। আমাকে খুবই পছন্দ করে—লাইক হিজ বিগ ব্রাদার। কিন্তু মাঝে মাঝে একটু বেশি…’ এটুকু বলে হাসান থেমে গেল। অপলা ভ্রু কুঁচকে তাকালো? ‘বেশি কী?’ ‘না কিছু না। তুমি বুঝবে না। আচ্ছা বাদ দাও ওর কথা।’ রুবেলের ব্যপারে অপলা আর কোনো আগ্রহ দেখাল না। কিন্তু সে তার আগের প্রশ্নের উত্তর এখনো পায় নি, তাই হাসানকে আবার মনে করিয়ে দিল। ‘তুমি কিন্তু এখনো বলনি।’ ‘কি জানতে চেয়েছিলে?’ ‘আর ইউ হ্যাপি?’ ‘তার কী কোন কারণ আছে?’ একটু চুপ করে থেকে হাসান বলল। ‘অবশ্যই আছে। তুমি যা চেয়েছিলে, তার সব কিছুইতো পেয়েছো। ইউ শুড বি হ্যাপি।’ ‘হতাম যদি আমার পাশে তোমাকে পেতাম—সবসময়।’ ‘কিন্তু তুমিতো আমাকে চাও নি।’ অসহায় চোখে হাসান তাকাল অপলার দিকে। সে কিছুই বলতে পারল না। তবে তার চোখের ভাষা পড়তে পারলে অপলা নিশ্চয়ই বুঝতে পারত তার মনের কথা। মুখের ভাষা মনের কথা বলে কিনা কে জানে, তবে সত্য-মিথ্যে যাই বলুক তা কানে শোনা যায়, তবে কতটা সত্য তা যাচাই করা মুশকিল। এই সমস্যার কারণেই মানুষের চোখের ভাষা বোঝা দরকার। চোখের ভাষা ভাল ভাবে রপ্ত করতে পারলে মনের কথা বোঝা যেতে পারে।

মানুষের জীবনে এমন কিছু সময় আসে যখন নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়—চাইলেও সঠিক কাজটি করা হয়ে উঠে না কখনোই। সময়ের সাথে মানুষ বদলায়। জীবনে কিছু কিছু প্রশ্ন থাকে যার উত্তর কখনও মেলে না, কিছু কিছু ভুল থাকে যা শোধরানো যায় না, আর কিছু কিছু কষ্ট থাকে যা কাউকে বলা যায় না। হাসান বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘বাদ দাও, আমার কথা। তোমার কথা বলো।’ ‘আমার কী কথা শুনতে চাও?’ ‘এনি রিলেশনশিপ?’ ‘আমিতো তোমাকে ছেড়ে কারো সঙ্গে রিলেশনশিপ করার জন্যে যাইনি, হাসান।’ এটুকু বলে অপলা অল্প সময় চুপ করে রইল। তারপর থেমে থেমে বলল, ‘কোনো ছেলের সঙ্গে যে একেবারেই মিশি নি তা কিন্তু নয়। কাজের সুবাদে অনেকের সাথেই পরিচয় হয়েছে—তবে কোনো সম্পর্ক গড়ে উঠেনি। শুধু জানার জন্যে মেশা। তবে যতটুকু জেনেছি এবং বুঝতে পেরেছি, তাতে বলাই যায়—আসলে সব ছেলেরাই একই রকম। দে জাস্ট ওয়ান্ট টু প্লে।’ ‘জেনারাইলাইজড হয়ে গেল না? সব ছেলেরা কি একই রকম?’ ‘বেশিরভাগ ছেলেরাই। তুমি অবশ্য ওদের কারো মতই নও। তুমি অনেক আলাদা।’ হাসান উৎসুক দৃষ্টিতে তাকাল অপলার দিকে। অপলা হাসতে হাসতে বলল, ‘You’re too nice.’ ‘You think so?’ ‘I know so!’ মনে হচ্ছে শ্যাম্পেনের মাত্রা একটু বেশি হয়ে গেছে। যদিও দুজনেই কথা বলছে অসম্ভব মার্জিত ভাবে এবং এখন পর্যন্ত যত কথা হয়েছে কিছুতেই অন্যরকম কিছু মনে হয়নি। তবে দুজনের সান্নিধ্য দুজনেই উপভোগ করছে সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। হাসান হঠাৎ করেই বলল, ‘Do you still love me?’ অপলা তাকিয়ে রইল নেশার দৃষ্টিতে হাসানের দিকে। তার চাহনিই বলে দেয় হাসানের প্রতি তার অনুরাগের কথা।

অনেকক্ষণ থেকেই তারা দুজন দুজনের হাত ধরে কথা বলছিল। কথার ফাঁকে ফাঁকে হাতের ছোঁয়ায় একে অপরের উষ্ণতার আদান-প্রদান করছে। শ্যাম্পেনের প্রভাবেই হোক আর ভাললাগা থেকেই হোক, তারা দুজন অজান্তেই একে অপরের খুব কাছাকাছি চলে এলো। অপলার চোখ বন্ধ হয়ে এলো আবেশে। হাসান তার ঠোঁট নামিয়ে নিয়ে এলো অপলার ঠোঁটের খুব কাছে। অপলা চোখ বন্ধ করে আছে। অসম্ভব নীরবতায় থমকে গেল কিছু মুহূর্ত। হঠাৎ অপলার মোবাইল ফোনটি বেজে উঠল ঝনঝন করে।

(চলবে…)

ফরহাদ হোসেন
লেখক-নির্মাতা
ডালাস,টেক্সাস