প্রেমাভিশাপ (কবিতা)

ঘোমটায় আঙুল ছুঁইয়ে কেঁপে উঠেছিলো- “এত্তো সুন্দর কেনো হতে হয় খোদা!”
সরুচোখে বলেছিলো নারী- “তো!”
“না তো! কিছু নয়!”- বলেছিলো লাজুক পুরুষ।
মানুষটা প্রেমে পড়ে শুধু!

পায়ের পাতায় ফোটে নিষ্ঠুর কাঁটা- “উহ্!”
তড়িঘড়ি খুলে নেয় দাঁতের মায়ায়!
“তাই বলে চোখ ভরে জল আসতে হবে!”- নারীর ফোঁড়ন।
“কী যে সব চোখে পড়ে! ময়লা তো উঠোনে!”- লাজে লাল হয়!
মানুষটা প্রেমে পড়ে শুধু!

গভীর নিদ্রায় ভেবে তলপেটে হাত।
“কন্যা হলে খুব কি মন খারাপ হবে?”- মিষ্টিস্বরে নারী।
তড়িতে সরায় হাত বিব্রত লাজে- “তোমার মতোন ঠিক কন্যা দেবে বলো?”
মানুষটা প্রেমে পড়ে শুধু!

ইশকুলে যায় কন্যা, পিছু ফেরে দুই।
“কন্যার সাথে কেনো পিতা ফিরে চায়!”- নারী হাসিতে লুটায়।
“না না! রুমাল খুঁজেছি!”- ত্বরায় সাইকেলে চাপে কন্যা আর বাপে।
মানুষটা প্রেমে পড়ে শুধু!

কবরে শোয়ার আগে জল খুঁজেছিলো- “একা থাকা কষ্টের বড়ো!”
হাতের মুঠোয় ছিলো জলেভাসা হাত- “যেখানেই থাকি, রবো জোড়ায়, কসম!”
মানুষটা প্রেমে পড়ে শুধু!

কবরে ঘুমোচ্ছে সে, ঘরে তার নারী,
অথচ দু’জনে আজও রয় জড়াজড়ি।
গভীর রাত্তিরে দেখে আকাশ উপুড়-
অনিদ্র বসে আছে নারীটি অঝোর!
মানুষেরা প্রেমে পড়ে শুধু।

-সালাহ উদ্দিন আহমেদ জুয়েল