মানুষের ভালোবাসার চেয়ে স্থায়ী ও বড় প্রাপ্তি আর কিছুই নেই।

ক্লাসের খারাপ ছাত্রটাকে একদিন রাস্তায় পেছন থেকে ডাক দিলাম, “এই হারুন না?” ছেলেটা পেছনে তাকালো এবং চমকে গেলো। সামনে এসে চোখে বিস্ময় নিয়ে আমতাআমতা করে বললো, “ম্যাম, আপনি আমার নাম জানেন?” আমি জানতাম সে চমকে যাবে। কোনো শিক্ষক কখনো তার নাম মনে রাখে না। কারণ সে ছাত্র ভালো না, ক্লাসে রেসপন্স করে না।

দুর্বল ছাত্রদের চোখে শিক্ষকরাই প্রথম দেখা পার্সিয়াল জাতি। তারা তাদের শিক্ষকদের পক্ষপাত আজীবন মনে রাখে। তারা জানে কোনো শিক্ষক কখনো তাদের অতটা গুরত্ব দেয় না, যতটা ভালো ছাত্রকে দেয়। এইসব আক্ষেপ নিয়ে বেড়ে ওঠে এক একজন সাধারণ কিশোর/কিশোরী। আমি ক্লাসের দুর্বল ছাত্রদের নাম মুখস্থ করি চুপিসারে। হুট করে একদিন নাম ধরে ডেকে চমকে দেই। ওরা শুধুমাত্র শিক্ষকের মুখে নামটা শুনেই চমকে যায়, আপ্লুত হয়।

একটু যত্ন, একটু গুরত্ব দেয়া একটা মানুষের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়। যে ছাত্র শিক্ষক থেকে আড়াল হতে চেয়ে পিছনের বেঞ্চে বসে মুখ লুকায়, তাকে বকা দিয়ে সামনে আনতে পারবেন না। তাকে গুরত্ব দিন, এমন ভাব দেখান যেন আপনি জানেনই না সে দুর্বল ছাত্র। তাকে সহজ একটা প্রশ্ন করুন যাতে সে উত্তর দিতে পারে। এপ্রিশিয়েট করুন। আমার এক বন্ধু একবার বললো, ” দোস্ত, এক মেয়ের প্রেমে পড়েছি। কিছুতেই পটাতে পারছি না। কী করি?” বললাম, “তার কোন ব্যাপারটা তোর চোখে অসুন্দর?” বললো, “তার তো সবই ভালো লাগে। তবে নাকটা একটু বোঁচা। যদিও এটা আমার চোখে অতটাও খারাপ লাগে না।” বললাম, “নাকের প্রশংসা কর বেশি বেশি। কাজ হয়ে যাবে।” হয়েছিলোও! পটে গেছে মেয়েটা! কারণ তার নাক নিয়ে সে হীনমন্যতায় ভুগেছে আজীবন। সবাই তাকে আজীবন বলেছে, “তোমার নাক অসুন্দর।”

মানুষ আত্মবিশ্বাসহীন হয়ে ওঠে পারিপার্শ্বিকের প্রভাবে, বিরূপ মন্তব্যে। আপনার আশেপাশের মানুষগুলোকে উৎসাহিত করুন। যে মানুষগুলোকে কেউ গুরত্ব দিতে চায় না, তাদের সাথেও হাসিমুখে কথা বলুন। বিনিময়ে অফুরন্ত ভালোবাসা পাবেন। কাউকে টাকা দিয়ে, খাবার দিয়ে, আরো অনেক কিছু দিয়েও অত খুশী করতে পারবেন না, হেসে কথা বলে যতটা পারবেন। এক টুকরো হাসি, একটু উৎসাহ, কিছুটা গুরত্ব দিয়ে যতটা আপনি মানুষকে সাহায্য করতে পারবেন, মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে পারবেন, আর কিছুতেই অতটা পারবেন না।
মানুষের ভালোবাসার চেয়ে স্থায়ী ও বড় প্রাপ্তি আর কিছুই নেই।

-জান্নাতুন নুর দিশা