মুক্তি

সেদিন বিকেলে বৃষ্টিভেজা স্যাঁতস্যাঁতে রাস্তায় অতিসাবধানে বকের মতো লম্বা লম্বা পাঁ ফেলে হাঁটছিলো মৃন্ময়ী। চোখের গাঢ় কালো কাজল ও চুলে গুঁজে রাখা একটি কাঠগোলাপে তার শ্যামলা বর্ণের গাঁয়ের রঙকে অতি আকর্ষণীয় লাগছিলো। তার দিকে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থেকে আমি সিগারেট টানছিলাম। ঠিক সে মুহূর্তে একটি লাল রঙের টয়োটা গাড়ি এসে দাঁড়ালো মৃন্ময়ীর সামনে। খট করে দরজা খুলে দুইজন মধ্যবয়সী পুরুষ হেঁচকা টানে তাকে তুলে নিলো সেই গাড়িটির ভেতর। ঘটনার আকস্মিকতা বুঝে উঠে সিগারেটটা ফেলে যেই ধরতে যাবো ওদের ঠিক তখনই একটানে গাড়িটা চলে গেলো আমার মুখের সামনে দিয়ে।গাড়িটি চলে যাবার সময় আমার চোখে পড়লো মৃন্ময়ীর ভয়ার্ত কান্না মাখা মুখ।

আমার মতো আরো কয়েকজন এসে ভীড় জমিয়ে ফেললো জায়গাটিতে। কিছু করতে না পেরে হতাশায় কেউ কেউ মৃন্ময়ীর দোষ বলে গালাগাল দিতে লাগলো, কেউবা ছেলে দু’টির জাত উদ্ধার করতে শুরু করলো। সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করে ফিরে এলাম টঙের বেঞ্চিতে। যেন কিছু হয়নি এমন ভাব করে আরেকটি সিগারেট ধরালাম। তারপর নিজেকে বোঝাতে লাগলাম, প্রতিনিয়ত এমন অনেক কিছুই ঘটছে পৃথিবীতে, কিন্তু সেখানে আমার কিছু করার নেই। এই পৃথিবীর সমস্ত অপরাধ কোন মানুষ একা দমন করতে পারেনা। শুধুমাত্র তখনই করার চেষ্টা করে, যখন সেরকম কোন অপরাধের শিকার হয় তার অতি আপনজন।

এইসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এলো। দূর থেকে ভেসে আসছে কর্কশ কন্ঠের মাগরিবের আজান। আজান সাধারণত সুমধুর হয়, কিন্তু যিনি আজান দিচ্ছেন তার কন্ঠটি বড়ই কর্কশ। একঝাঁক বিরক্তি নিয়ে আমি ফিরে এলাম ঘরে। ঘরে ঢুকে বিছানায় গাঁ এলিয়ে দিতেই আমার গাঢ় ঘুম পেয়ে বসলো। ঘুম ভাঙলো রাতের ৯ টায়। রুম থেকে বের হয়ে ডাইনিং রুমে যেয়ে দেখি টেবিলে খাবার রাখা আছে আমার জন্য। খাবার খেয়ে মোবাইলটা হাতে নিতেই মোবাইল স্ক্রিণে ভেসে উঠলো মৃন্ময়ীর মিসড কল। সেদিকে চোখ পড়তেই মনে পড়লো মৃন্ময়ীর বিকেলের ঘটনা। কিছুক্ষণ গুম মেরে বসে থেকে ঢুকলাম ফেসবুকে। ঢুকে জানতে পারলাম, মৃন্ময়ী আর নেই। গুলশানের বাড়ির সামনে পাওয়া গেছে ওর গলাকাটা লাশ।

পুরো ফেসবুক জুড়ে মৃন্ময়ীর মৃত্যুর শোক প্রকাশ চলছে। প্রতিবাদী একদল “উপযুক্ত বিচার চাই” বলে রব তুলেছে। তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক এক দল।এই দল উপযুক্ত বিচারের আশায় মানবিক দিক থেকে ওদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, নাকি এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকার বিরোধী এজেন্ডা তৈরি করবে সেজন্য পাশে দাঁড়িয়েছে- তা নিয়ে রয়েছে মারাত্নক দ্বিধা!

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আমিও মৃন্ময়ীর জন্য শোক প্রকাশ করে মৃন্ময়ীর সাথে তোলা একটি ছবি কভারে যুক্ত করে লিখলাম, “ভালো থাকিস ওপাড়ে, তোর জন্য কিছুই করতে পারলাম না।”
তারপর, একটি স্মৃতিজর্জরিত লেখা লিখে স্ট্যাটাস দিলাম।

এইতো সুযোগ লাইক-কমেন্ট-শেয়ার পেয়ে জনপ্রিয় হওয়ার। মৃন্ময়ীর আইডি মেনশন দিয়ে স্মৃতি জর্জরিত কিছু লেখা লিখবো, তারপর মৃন্ময়ীর বিচার চেয়ে স্ট্যাটাস প্রসব করবো- সবাই জানবে আমি মৃন্ময়ীর কাছের মানুষ। এই সুযোগে কিছু মানুষ আমাকে চিনবে। সাথে আমার লাইক-কমেন্ট-শেয়ার-ফলোয়ার বাড়বে। সুতরাং, এই সুযোগ ছেড়ে দেওয়া নিছক বোকামী।

আমার কিছুদিন কেঁটে গেলো মৃন্ময়ীর লোক-দেখানো শোকে। তারপর, সবকিছু ভুলে আবার কাজে নেমে পড়া। এরমধ্যেও ঐ রাজনৈতিক দল মৃন্ময়ীর বিচার নিয়ে এখনো আন্দোলন করে যাচ্ছে, যদিও মৃন্ময়ীর পরিবার শোক নিজের ভেতরে রেখে বিচারের আশা ছেড়ে যে যার মতো কাজে নেমে পড়েছে। সুতরাং, বোঝা যাচ্ছে এই আন্দোলনটাও সরকার বিরোধী এজেন্ডা হিসেবে রূপান্তরিত হচ্ছে।
যাই হোক, এতো সাত-পাঁচ ভেবে লাভ নেই। আমাকেও তো বেঁচে থাকতে হবে!

নিত্য দিনের কাজকর্মে ডুবে থাকতে থাকতে, ফেসবুকে একটা-দুইটা স্ট্যাটাস আর চ্যাটিং করে দিন কেটে যাচ্ছিলো। তারপর একদিন চট্টগ্রামের সিআরবিতে বসে সিগারেট টানছিলাম। সময়টা তখন রাতের ৮ টা হবে। এসময় সিআরবিতে থাকতে পুলিশ মানা করে। কেননা, জায়গাটি খারাপ।
দূর থেকে হঠাৎ একটি নারী কন্ঠ শুনলাম, “ প্লিজ ছেড়ে দিন। আমাকে ছেড়ে দিন।”
আমি চুপচাপ শব্দটার দিকে এগিয়ে গেলাম।

একটু ভেতরে যেয়ে দেখি তিনজন মাঝবয়সী নিম্নবিত্ত শ্রেণীর পুরুষেরা একটি মেয়ের উপর ঝাঁপিয়ে পরেছে। আমি কি করবো, কি করবো- ভাবতে ভাবতে মোবাইলটা বের করলাম। বের করে মোবাইলের ভিডিও অপশন অন করে ভিডিও করা শুরু করলাম!
এরকম একটি অপরাধের প্রতিবাদ হওয়া উচিত। দেশটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
মোটামুটি ধর্ষণ সমাপ্তির পর্যায়। আমি নিজেও ধর্ষণের মুহূর্তগুলো দেখে শিহরিত হয়ে উঠছিলাম। কিন্তু, এখানে আর বেশিক্ষণ থাকলে আমার নিজেরই কোন হদিস পাওয়া যাবেনা।
সুতরাং, আমাকে অনেকটা দৌড়ে পালাতে হলো সিআরবি থেকে। যদিও পালাতে ইচ্ছে করছিলোনা, বারবার মনে হচ্ছিলো, ইশ! আমাকেও যদি একটু সুযোগ দিতো!

ঘরে ফিরে ধর্ষণের উপযুক্ত বিচার চেয়ে ভিডিওটি আপলোড করলাম। কয়েক মিনিটের মধ্যে শেয়ার শুরু। রাতের মধ্যে মোটামুটি জনপ্রিয় হয়ে গেলাম!

ভিডিওটিতে সবাই “ধর্ষকের বিচার চাই” লিখে ধর্ষককে ধরিয়ে দিতে সহায়তা করার জন্য শেয়ার দিতে লাগলো। শুধু দু’একজন আমার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললো।

আরে ব্যাটা, আমি যদি ভিডিও না করতাম, তাহলে কি বিচার হতো। আমি নিজেই তো গুম হয়ে যেতাম। আর প্রতিবাদ করলে কি আমি জনপ্রিয় হতে পারতাম!
এখন আমি অনেক জনপ্রিয়। সুতরাং, এগুলা এখন আর লেখা যায়না। তারচেয়ে ভালো এদেরকে এড়িয়ে যাওয়া।
খুশিমনে রাতে ঘুমোতে গেলাম। সকালে উঠে আবার আমাকে ঢাকা যেতে হবে।

সকালে ফ্লাইটে উঠে সুন্দরী বিমানবালাদের বুক আর নিতম্বের মাপ নিতে নিতে ঢাকা পৌছে গেলাম।

সকালে গাড়ি নিতে না আসায় কিসে যাবো ভাবতে ভাবতে আমার সামনে একটি বাস এসে দাঁড়ালো। বাসে প্রচন্ড ভীড় থাকা সত্ত্বেও উঠে গেলাম। কেননা, তিন-চারজন মেয়ে দাঁড়িয়েছিলো। ভীড় ঠেলে উঠে সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটির পাশে এসে দাঁড়ালাম। বাসের প্রতিটা ঝাঁকি আর ব্রেকের সাথে ইচ্ছে করে আরেকটু হেলে মেয়েটির উপর পড়ছিলাম, আর সূযোগ বুঝে মেয়েটির বুকে, কোমড়ে, নিতম্বে হাত রাখছিলাম। ভীড় বেশি থাকায় মেয়েটি কিছু বলতেও পারছিলোনা, আবার সরতেও পারছিলোনা। সেই সূযোগে যতটুকু স্পর্শ করা যায়, করে নিলাম।
কিছুক্ষণ পরে মেয়েটি নেমে গেলো। তারও কিছুক্ষণ পর আমি নেমে গেলাম।

বাসায় এসে কুসুম গরম জলে স্নান সেরে সকালের নাস্তা খেয়ে নিলাম। তারপর মেয়েদের বাসে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিলাম। মুহূর্তে হাজারের উপর লাইক, ৩০০-৪০০ শেয়ার। মনটা বড় আনন্দে ভরে গেলো।

এভাবেই দিন কাটছিলো। এর মাঝে সুন্দরী মেয়েরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে নক দেয়, অনেকে এমনিতেই দেয়। লেখক হওয়ার এই এক সুবিধা। মেয়েরা নিজে থেকে নক দেয়, প্রশংসা করে। প্রত্যুত্তরে তার প্রশংসা করে যৌনতা নিয়ে আলোচনা করতে হয়। আলোচনার এক সময় তাকে ইঙ্গিত দিয়ে বোঝাতে হয় শরীরের সতীত্ব এটা একটা মিথ। তারপর তার সাথে শুয়ে নতুন আরেকজনকে ধরা।
এভাবে যে কত মেয়ের সাথে শুয়েছি, তার কোন ইয়াত্তা নেই।
মেয়েগুলাও বেকুব। কেন যৌনতা নিয়ে আলোচনা করছি তা প্রথম প্রথম না বুঝে সায় দেয়, অনেকে বা বুঝে দেয়। তারপর একসময় শরীর দিয়ে দেয়!

সবকিছু ঠিকভাবে যাচ্ছিলো, তারপর একদিন বিয়ের পিড়িতে বসলাম। বউটা আমার মাশাল্লাহ রূপসী। দিন দিন তার সাথে সম্পর্ক গভীর হতে লাগলো। একসময় তার থেকে জানতে পারলাম, সে একজন লেখকের সাথে অভিজ্ঞতার জন্য শুয়েছে। শুনে আমার পিত্তি জ্বলে গেলো। পাগলের মতো রাগ চেপে বসলো। রাগের বসে একটার পর একটা মেয়ের সাথে শুতে লাগলাম। বেপরোয়া ভাবে প্রতিটা মেয়েকে অশ্লীল মেসেজ দিতে লাগলাম। তখন মনে হচ্ছিলো, সব মেয়েদের সাথে শুইলে তবেই আমার শান্তি হবে।

কিন্তু বলেনা, বেপরোয়া কোন জিনিসই ভালোনা। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার স্ক্রিণশট ফাঁস হয়ে গেছে। আমার অনুরাগীরা আমার পক্ষে লড়ছে, আবার অনেকে আমার বিপরীতে। এর মাঝে একটার পর একটা স্ক্রিণশট বের হতে লাগলো। এক সময় সবাই বুঝতে পারলো আমার কাজকর্ম। এর মাঝে কোথা থেকে কোন ছেলে এসে জুড়ে বসলো। সে আমার বাস্তবিক জীবনের অপকর্মের কথা তুলে ধরলো। পাশাপাশি আইনীয় ব্যবস্থা নিলো।

এরপর আর কি। আমার সংসার ভেঙে যায়। চাকরী চলে যায়। জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। একটা সময়ে এসে দেখলাম, আমার সাথে কেউ নেই, একদমই কেউ নেই। সেদিন বুঝতে পারলাম কি ভুলের মাঝে বেঁচে ছিলাম আমি।

এরপর থেকে আমার সামনে কোন অপরাধ হলে আমি ভিডিও না করে, স্ট্যাটাস না দিয়ে সামনাসামনি প্রতিবাদ শুরু করি। এতে অপরাধ থেমে যায়। কেননা, অপরাধী জানে সে অপরাধ করছে। তাই, সে যখন বাঁধা পায়, তখন অপরাধ করতে ভয় পায়। এখন আমি মুখে যা বলি, কাজেও তা করি। নিজে যা করি, অন্য কেউ সেই একই কাজ করলে মেনে নিই। কারণ, নিজে করে অন্যকে করতে মানা করার অধিকার আমার নেই।

এখন হয়তো আমার খুব বেশি জনপ্রিয়তা নেই। অনলাইনে হয়তো আমি কলঙ্কিত একটি নাম। তারপরও বাস্তবজীবনে বেশ কয়েকজন বন্ধু পেয়েছি, যারা বাস্তবে আমার সাথে থাকে, অনলাইনে না।

তোমরা হয়তো আমার গল্প পড়ে আমাকে দু’চার কথা শোনাবে। কিন্তু, একবারও কি ভেবে দেখেছো, এই ঘটনাগুলো বর্তমান সময়ের অধিকাংশ মানুষের গল্প না? কিসের আশায় তোমরা অন্ধের মতো ছুঁটে বেড়াচ্ছো? পেলেও বা কি এমন হচ্ছে? আদৌ কি কিছু হচ্ছে? এর চেয়ে বরং বাস্তবজীবনমুখী হও। অনলাইনে আদর্শবাদী না হয়ে, বাস্তবজীবনে আদর্শবাদী হও। অনলাইনে একের পর এক উপদেশ না দিয়ে, তার এক পার্সেন্ট তোমাদের নিজেদের বাস্তবজীবনে কাজে লাগাও- তোমাদের জীবন তো বদলে যাবেই, সাথে দেশের অপরাধ অর্ধেকের বেশি কমে যাবে।

কথা শেষ করে চুপ করে বসে রইলেন ব্রজেশ্বরদা।

আমি তার দিকে কিছুক্ষণ একমনে তাকিয়ে থেকে জিজ্ঞেস করলাম, বৌদি কি ফিরে এসেছেন?

জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছিলো পশ্চিমের আকাশ। হালকা নীলের মাঝে ঈষৎ লাল রঙের আভায় রক্তিম হয়ে আছে আকাশটা। সেদিকে আনমনে তাকিয়ে থেকে ব্রজেশ্বরদা আমাকে বললেন, ভুল করলে তার জন্য কিছুতো হারাতে হয়। তাইনা, সুনীল? আমি নতুন একটি জীবন পেয়েছি, বিনিময়ে আমাকে কিছু তো হারাতেই হতো।

আমি কিছুক্ষণ নীরব থেকে একটি সিগারেট ধরালাম। সিগারেট টানতে টানতে দেখতে লাগলাম ব্রজেশ্বরদাকে। অপরাধবোঁধটা কুঁকড়ে কুঁকড়ে খাচ্ছে তাকে।

আমার বারবার তাকে বলতে ইচ্ছে করছিলো, “দাদা, আমার প্রেমিকার সাথে আপনি শুয়েছিলেন। কিন্তু, আজ আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আপনার প্রতি আমার আর কোন রাগ-ঘৃণা কিছুই নেই। তবে, আপনি যদি আপনার অপরাধটাকে স্বীকার না করে আগের মতো থাকতেন, তাহলে আমার এই হাত দিয়ে আমি আপনাকে খুন করতাম। আমি এসেছিলাম আপনাকে খুন করতে। কিন্তু,আপনার পরিবর্তন আপনাকে বাঁচিয়ে দিলো। ভালো থাকবেন।”
কিন্তু, এই কথাগুলো বলা যায়না। তাই, চুপ করে আরো কিছুক্ষণ বসে ব্রজেশ্বরদাকে বিদায় জানিয়ে উঠে পড়লাম। আজ বুকের ভেতর থেকে একটি ভারী পাথর নেমে গেলো।

মৃন্ময়ী বলেছিলো, তার জীবনের একটি অপরাধবোধ রয়েছে। সেই অপরাধবোধটা ব্রজেশ্বরদা’কে নিয়ে। ব্রজেশ্বরদা যদি বদলে যান অথবা পৃথিবীতে না থাকেন, তবেই সে মুক্তি পাবে। আর, মুক্তি পেলেই সে আমাকে গ্রহণ করতে পারবে।

মৃন্ময়ীকে মুক্তি দিতেই এসেছিলাম আমি। আজ মৃন্ময়ী মুক্ত। একেবারেই মুক্ত। পৃথিবীর সব বাঁধন থেকে মুক্তি পেয়েছে আজ। মৃত্যু পরবর্তী জীবন বলে যদি কিছু থাকে তবে সেখানে ভালো থেকো। তোমার সাথে সাথে আমিও আজ মুক্ত হলাম দায়িত্ববোধ থেকে। আজ থেকে আমার আর কেউ নেই, কেউই নেই এই পৃথিবীতে।

-জিসান রাহমান