ললিতা (১০ ম এবং শেষ পর্ব)

জুবায়েরের তিন নৌকায় পা দিয়ে জীবন ভালোই চলছে এখন। শারমিন কিছুই টের পাচ্ছেনা। ললিতাও চায়না যে শারমিন জানুক। সে নিজেই যা করার করবে।

স্বাবলম্বী অফিসের নীলা আপা খুবই ভাল মানুষ। ললিতাকে অনেক স্নেহ করেন।
জুবায়েরের অাচরণে যখন একদম অতিষ্ট তখন ললিতা শারমিনের বাসার কাজটা ছেড়ে দিবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়,কিন্তু তার আয়ের আরও একটা উৎস খুঁজতে হবে।
অফিস থেকে নীলা দ্রুত ফেরায় আজ দুজনে মিলে রান্না করছে নয়ত অন্যদিন ললিতা একাই করে। রান্নাঘরে দুজনের খোশগল্পের এক পর্যায়ে ললিতা ভাবে, “নীলা অাপা তো অনেক বুদ্ধিমতি, তার কাছ থেকে যদি কোন পরামর্শ পাওয়া যায়!”
নীলা আপাকে ললিতার কাছে অনেক বিশ্বস্ত মনে হয়,কোমলমতি এবং বুদ্ধিমতি মহিলা।
— আপা, আফনের অফিসে আমারে যদি একটা কোন কাজ দিতে পারতেন! নয়ত আপনার জানাশোনা কোন কাজ যদি থাকে দিয়েন।
— আচ্ছা দেখবোনে। আগের কাজটা কি হয়েছে?
— ওই কাজটা ছেড়ে দিমু আফা।
— কেন? ঝামেলা করে?
— না, তবে একটা কথা যেটা আইজও আমি কাউরে কই নাই।
— কি কথা?
—ওই বাসার ভাইসাবের চরিত্র ভাল না।
ললিতা একে একে সবকিছু নীলা আপাকে খুলে বলে, নীলা আপা অবাক হয়নি কারন এমন চিত্র সমাজে অহরহ পাওয়া যায়।
তিনি ললিতাকে কাজটা না ছাড়ার পরামর্শ দেন, এবং জুবায়েরকে শায়েস্তা করার পথটাও বলে দেন। উনার দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করলে শারমিনকে বিষয়টা জানাতে হবে কিন্তু ললিতা চায় না শারমিন জানুক, সে শারমিনকে কষ্ট দিতে পারবে না।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যা যা করতে হবে সবকিছু নীলা আপা ললিতাকে বুঝিয়ে পড়িয়ে দেন।
এভাবে কেটে গেল একটা মাস,ললিতা জুবায়েরকে সুযোগে পাচ্ছেনা কিছুতেই। আর
সুযোগ যে আজই হাতে ধরা দিবে ললিতা কিছুতেই ভাবতে পারেনি সেটা।
অনেকদিন পর জুবায়ের তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরেছে,নয়তো ললিতার সাথে তার দেখাই হয়না।
অফিস থেকে ফিরে ড্রেস চেইঞ্জ করে রান্নাঘরের দিকে উঁকি দেয় সে, ললিতা ফিরে তাকাতেই দাঁত কেলিয়ে একটা হাসি দিয়ে চলে যায় সে, ললিতা অনুভব করে জুবায়ের আবার আসবে, আজ আর ললিতা ভয় পাচ্ছেনা। জুবায়ের বাহিরের দরজাটা লক করতে যায়,আর ললিতাও এদিকে তার পদক্ষেপটা নিয়ে রাখে। কিছুক্ষন পরই জুবায়ের রান্নাঘরে ঢুকে ললিতাকে জাপটে ধরে তার বুকের সাথে, ললিতা তাকে ছাড়াতে আপ্রাণ চেষ্টা করে, কিছুতেই নিজেকে ছাড়াতে পারছেনা। হাতের কাছে রাখা ধারালো ছুড়িটা কোনমতে হাতে নিয়েই ললিতা জুবায়েরের হাতে একটা হ্যাঁচকা টান মারে, ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়। জুবায়ের অবাক হয়! একি করলো ললিতা?
হাতের রক্ত বন্ধে ব্যস্ত হয়ে রান্নাঘর থেকে বেডরুমের দিকে ছুটে চলে জুবায়ের, এদিকে ললিতা মোবাইলে চালু করে রাখা ভিডিওটা সেইভ করে রেখে দেয়। জুবায়েরকে ওই অবস্থায় ফেলে রেখেই ললিতা চলে আসে।
জুবায়েরের হাতের রগ কেটে যায় ললিতার ছুড়ির আঘাতে। শারমিনকে বলেছিল পথে ছিনতাইকারী ধরেছিল, ফোনটা নিয়ে যেতে চাইছিল, দেয়নি বলে ছুরি মেরেছে।
জুবায়ের কিন্তু ছেড়ে দেয়ার মানুষ নয়,সে প্রতিশোধ নিতে চেষ্টা করবেই তাই ললিতা তার আরও একটা পদক্ষেপ নিয়ে রাখে।
এরই মধ্যে ললিতা তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সুখবরটা পায়,সে মা হতে চলেছে। ললিতার আনন্দ যেন আর ধরেনা। ডাক্তার প্রথম তিনমাস বেডরেস্টে থাকতে বলেছে।
শারমিন ললিতার এ সুসংবাদে অনেক অনেক খুশি,তাই ললিতা কাজ ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব রাখলে শারমিন এক বাক্যে রাজি হয়ে যায়, “দেখ ললিতা আগে তোমার সন্তান তারপর তো কাজ! ” আপত্তি সাধে জুবায়ের! ললিতা চলে গেলে বাসার কাজ কে করবে?
শারমিন মুচকি হেসে বলে, “আমরা দুজনে করবো,এর মধ্যে আশা করছি বিশ্বস্ত কাউকে পেয়ে যাবো। ”
রাগত স্বরে জুবায়ের উত্তর দেয়,”ললিতা কাজ ছাড়লে হবেনা। ”
জুবায়েরের আপত্তি উপেক্ষা করেই ললিতা বিদায় নিয়ে চলে আসে।
ডাক্তার দেখিয়ে বিকালে মাস্টার আপার সাথে ফেরার পথে হঠাৎ করেই জুবায়েরকে দেখে ললিতা সেই মেয়েটির সাথে। মাস্টার আপা ললিতাকে রিক্সায় তুলে দিয়ে কেনাকাটা করবেন বলে চলে গেলেন। ললিতা জুবায়েরের পিছু নেয়, স্টেশনের কাছে একটা গেস্ট হাউসে ঢুকেছে দুজনে। তৎক্ষণাৎ সে নীলা আপাকে ফোন করে, নীলা অফিসেই ছিল, তার স্কুটি টা নিয়ে এসে হাজির হয়। হোটেল মালিকের সাথে কথা বললে,মালিক পুলিশি ঝামেলায় না যেতে অনুরোধ করে। নীলা সে কথা মেনে নেয় কিন্তু বিনিময়ে তাকে একটু ভেতরে যেতে দেয়ার সুযোগ চায়। গেস্ট হাউজ মালিক সেটা মেনে নেন।
নিঃশব্দে ভেতরে ঢুকে জানালার থাই গ্লাসটা আলতো করে সরিয়ে নেয় নীলা, পর্দার আড়ালে থেকেই অত্যন্ত কৌশলে ভিডিও করে নীলা। পাঁচমিনিটের ভিডিও নিয়ে সে বেরিয়ে আসে,সাথে ললিতাও।
কাজটা ছেড়ে আসার পর থেকেই জুবায়ের প্রায়ই ললিতাকে ফোন করছে আবার কাজে ফিরে যেতে, কোন লাভ হচ্ছে না দেখে সে হারিছকে সব বলে দিবে বলে হুমকি দেয়। হারিছকে বলবে ললিতার গর্ভে যে সন্তান তা হারিছের নয়,জুবায়েরের নিজের।এতদিন এই খালি বাসায় তারা প্রায়ই মিলিত হত,এজন্যই সে হারিছকে দেখতে পারতো না ইত্যাদি।
এমন কথা শুনে ললিতার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। কিন্তু না ললিতাকে এখন ভেঙে পড়লে চলবে না।
রাত এগারোটা হারিছ আর ললিতা যখন গভীর ঘুমে, ঠিক তখনই জুবায়েরের কল আসে। নাম্বারটা দেখে ললিতা আঁতকে উঠে,দুইবার তিনবার কল বাজার পর ললিতা ফোনটা রিসিভ করে।
জুবায়েরের হুমকি, “আজই শান্তি মত হারিছের সাথে ঘুমিয়ে নাও,কাল থেকে হারিছ তোমাকে শুধু ঘেন্নাই করবে।” ললিতা শুধু মুচকি হেসে ফোনটা কেটে দেয়।
সাত সকালে ঘুম ভেঙেই ললিতা তার কেরামতি দেখাতে জুবায়েরকে ফোন করে। ললিতার নাম্বার দেখে জুবায়ের ভাবে হয়তো ললিতা ভয় পেয়ে গেছে তাই এত সকালে তাকে অনুনয় করার জন্য ফোন করেছে। আসলে জুবায়ের চাইতো ললিতাকে তার কলিগের মত ভোগ্যপণ্য বানাতে। যখন দেখছে তার হাতে কোন সুযোগই রইলো না বরং ললিতার কাছে সে পরাস্ত।তাই সে ব্ল্যাকমেইলের পথটা বেছে নিয়েছে। জুবায়ের মনে মনে ভাবছে ললিতা হয়ত ভয় পেয়ে আবার কাজে যাবে আর ললিতাকে দেখে দেখে সে তার জিহ্বার লালা ফেলবে নয়ত সেদিনের মত আরও বেশি কিছু করার চেষ্টা করবে।ললিতার মত একটা সামান্য কাজের লোকের কাছে পরাজয় সে মানতে পারছেনা যেন।
ললিতার কলে তার মুখে এক হিংসাত্মক আনন্দ ভেসে উঠে কিন্তু তার স্থায়ীত্বকাল মাত্র এক নিমিষেই উড়ে গেল।
ললিতা জানিয়ে দেয় রান্নাঘরে তাকে জড়িয়ে ধরার ভিডিওটার কথা,এমনকি হোটেলে ওই মেয়ের সাথে কুকর্মে লিপ্ত থাকাকালীন তারা যে ভিডিও করেছিল সেটার কথাও।
জুবায়ের ভড়কে যায়, তবে বিশ্বাস করতে চায়না। ললিতা তাকে আশ্বস্ত করে, যদি প্রমান চায় তাহলে প্রমান দিতে পারবে। তবে এ ভিডিওগুলো তার অফিসে,সমস্ত আত্মীয় স্বজনের কাছে,শারমিনের কাছে, তার গ্রামে এবং তার বন্ধু মহলে সবার হাতে খুব সহজেই পৌঁছে দিবে।
জুবায়ের আবারও ললিতাকে হুমকি দিতে চেষ্টা করে যাতে করে ললিতা ভয় পেয়ে এসব না করে। “বহু বছর পর তোমার পেটে সন্তান এসেছে, ওর সাথে নিজের প্রাণটা হারানোর জন্য এ খেলা খেলছো? ”
ললিতা বুকে একরাশ সাহস নিয়ে বলে,”প্রাণের ভয় আমি করিনা, গরীবরাও যে মানুষ আর তারাও যে কিছু করতে পারে কার প্রমাণ আমি দিব। শারমিন আপার মত একজন ভালমানুষরে ঠকাইয়া আপনি আমারেও প্রতিদিন গিইলা খাইতে চাইছেন। ”
— তুমি আমাকে মিথ্যে ভয় দেখাচ্ছো ললিতা কিন্তু আমি কিন্তু তোমাকে কোন মিথ্যে ভয় দেখাচ্ছি না। একবারে শেষ করে দিব যদি ওই ভিডিও ফিডিও কিছু পাই। ”
— সেই পথও বন্ধ কইরা দিছি, জুবায়ের সাহেব! আপনার বন্ধু অতনু দাদার কাছে জাইনা নিশ্চিন্ত হয়ে নিবেন থানায় আমি আপনার নামে জিডি কইরা রাখছি কিনা! । আমার বা আমার পরিবারের কারোর কিছু হইলে এমনকি শারমিন আপার কিছু হইলেও আপনি দায়ী থাকবেন। ”
জুবায়ের অবাক হয়,ব্ল্যাকমেইলের খেলা খেলতে গিয়ে এখন সে নিজেই ব্ল্যাকমেইলের শিকার! এ মেয়ে দেখছি আঁটঘাট বেঁধে মঠে নেমেছে। যে মেয়েটা দুদিন আগেও তার সাথে একটা কথা বলতে তিনবার ঢোক গিলতো সে মেয়েটা আজ এসব কি বলে যাচ্ছে? জুবায়ের যেন নিজের কানে বিশ্বাস করতে পারছেনা।
ললিতা বুঝে তার কথাতে জুবায়ের কিছুটা ভড়কে গেছে। ফোনের ওপাশে জুবায়ের নীরব।
— ভাইজান, আফনের ভিডিওটা কি আগে আফনেই দেখবেন? তাইলে আজ দুপুরে রেডি থাইকেন।
— কি বলছো তুমি? কি করবে?
— বেশি কিছুনা, ভিডিওগুলা দেখে আপনার নয়ন দুইডা জুড়াবেন।তারপর আপনি নিশ্চিন্ত করে দিবেন কার কার কাছে ভিডিওগুলা প্রথম পাঠাইতাম। ”
— হ্যালো ললিতা, ললিতা।
ফোন কেটে দিয়েছে ললিতা।
জুবায়েরের নিজের মাথার চুল নিজে ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে। এতদূর সে না এগোলেই পারতো, শারমিন তাকে কত ভরসা করে,ভালোবাসে অথচ তার মূল্য না দিয়ে….। আর কিছু ভাবতে পারছেনা সে, সময় যে সবসময় কারোর অনুকূলে যায়না এটা জুবায়ের টের পাচ্ছে। ললিতার সাথে নোংরা খেলা খেলতে গিয়ে এখন নিজেই ফেঁসে গেছে। ললিতাকে না খোঁচালে হয়তো এগুলো সামনে আসতো না। এতদিন তো ললিতা ভিডিওগুলো থাকা সত্বেও চুপ করেই ছিল। কিন্তু ললিতার মাথায় এত কিছু কাজ করছে কি করে? তাহলে কি ওই নীলা ম্যাডাম? হ্যাঁ উনিই ললিতাকে সবকিছু শিখিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছেন।
লাঞ্চ টাইম, জুবায়ের এখন অফিস ক্যান্টিনে খায়। আজ তার খেতেও ইচ্ছে করছেনা। এরই মাঝে শারমিনের ফোন,
— হ্যালো, কি করছো?
— এই তো বসে আছি, লাঞ্চ টাইম এখন।
— খেতে যাওনি?
— না ইচ্ছে করছেনা।
— কিছু খেয়ে নিও,সকালেও খাওনি কিছু।
— আচ্ছা দেখি।
— ওকে।
শারমিনের কলটা কেটে জুবায়ের এ প্রথমবার নতুন করে অনুভব করে শারমিন তাকে কতটা ভালবাসে। অফিসের কাজের ফাঁকে আজও খেয়াল করে তাকে ফোন করেছে,সকালে খায়নি সেটাও মনে রেখেছে।
অানমনে ভাবতে ভাবতে ফেইসবুকে লগইন করতে যাবে তখনই মেসেঞ্জারে টুং করে দুইটা আওয়াজ হয়, রাতের তারা নামক আইডি থেকে দুইটা ভিডিও ফুটেজ এসেছে, জুবায়েরের ভেতরটা যেন ধক করে উঠে, অন্য সময় তো এত ভয় তার মাঝে কাজ করতো না! কিন্তু আজ কেন?
এগুলো কি ললিতার ভিডিওগুলো? মেসেঞ্জারেই বা কেমনে আসবে? ললিতা তো এসব ব্যবহার করতে জানেনা,তাহলে কি ওই নীলা ম্যাডাম ওর সাথে আছে?
ভিডিওটা অন করতে গিয়ে জুবায়েরের শরীর যেন ঘেমে যাচ্ছে,এসি রুমে বসেও সে ঘামছে, কিন্তু কেন? এমন ভিডিও যে কত হাজারবার ইন্টারনেটে দেখেছে আর উত্তেজিত হয়েছে তার কোন হিসেব নেই, কিন্তু আজ নিজেকে এভাবে দেখবে বলেই কি সে ঘামছে?
সাহস করে ভিডিও টা চালু করে দেখে সে যা ভেবেছে তাই, স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে জুবায়েরের মুখ আর তার অফিস কলিগ সুইটির নোংরামি গেস্ট হাউজের বেডে।
জুবায়ের পরের ভিডিওটা চালু করে দেখতে পায় ললিতাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়া আর ললিতার ধস্তাধস্তি অতঃপর ললিতার ছুরিকাঘাত। অফিসের সবাই জানতো ছিনতাইকারীর গল্প কিন্তু ভিডিও ফাঁস হলে জানবে তার নোংরামির গল্প। জুবায়েরের মাথা ঘুরছে, একবার ভাবতে চাইছে যা হওয়ার হোক,আবার আশংকা ঘিরে তার ব্যক্তিত্বের প্রশ্ন নিয়ে, চাকরি চলে যাওয়ার প্রশ্নে, সবাই তার মুখে থুথু দিবে সেটা ভেবে।
জুবায়েরের প্রেসার বেড়ে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। তার পিএস এসে জুবায়েরকে নিচে পড়ে থাকতে দেখে সবাইকে ডেকে আনে,দ্রুত তাকে পাশের ক্লিনিকে ভর্তি করিয়ে শারমিনকে ফোনে ইনফর্ম করে।
সন্ধ্যায় জুবায়েরের অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলে ডাক্তার তাকে বাসায় নিয়ে যেতে অনুমতি দেয়। শারমিন জুবায়েরের কলিগদের সহায়তায় অফিসের গাড়ি দিয়ে তাকে বাসায় নিয়ে আসে।
হারিছ রাস্তার মোড়ে গাড়ি থেকে অসুস্থ জুবায়েরকে নামাতে দেখে ব্যথিত হয়,সেও সবার সাথে ধরাধরি করে জুবায়েরকে ভিতরে নিয়ে যায়, ফিরে এসে ললিতাকে জানায় জুবায়েরের অসুস্থতার কথা। ললিতার বুঝতে বাকি থাকেনা হঠাৎ প্রেসার বেড়ে যাওয়ার কারন।
দুঃশ্চিন্তা এখনো জুবায়েরের পিছু ছাড়ছেনা,অতনুর ফোনে জুবায়েরের প্রেসার যেন আরও বেড়ে যেতে লাগলো।
— হ্যাঁ দোস্ত বল,
— তুই নাকি অসুস্থ?
— তুই কেমনে জানলি?
— ললিতা বললো,ওই যে তোর বাসায় কাজ করতো যে।
জুবায়েরের আর বুঝতে বাকি নেই যে ললিতা মিথ্যে আস্ফালন করেনি সে সত্যিই অতনুকে জানিয়েছে।
— হ্যালো দোস্ত, শুনতে পাচ্ছিস?
— হ্যাঁ বল।
—জানি তুই অসুস্থ কিন্তু কথাটা তোকে আজ বলতেই হবে।
— ললিতাদের মত মানুষকে কখনোই অবলা ভাবিস না, সময় এলে এরাই তোদের মত মানুষের ভীত নাড়িয়ে দিতে পারে,পায়ের তলার মাটি কেড়ে নিতে পারে। সমাজের প্রতিটা মানুষকে মানুষ ভাবিস।
শারমিন আর ললিতার কাছে পারলে ক্ষমা চেয়ে নিস।
জুবায়েরের মুখে আর কোন কথা আসেনা। অতনু ওপাশ থেকে ফোনটা কেটে দেয়।
সময় ছুটে চলে তার গতিতে…

মসজিদ থেকে ফেরার পথে ললিতার সাথে জুবায়েরের দেখা,ললিতা তার মেয়েকে নিয়ে ডাক্তারের কাছ থেকে ফিরছে। ললিতার সুন্দর ফুটফুটে একটি মেয়ে হয়েছে,মেয়েটির বয়স ৩মাস এখন।
জুবায়েরকে দেখে ললিতা স্তম্ভিত হয়,মুখে লম্বা দাঁড়ি, মাথায় টুপি পড়ে মসজিদ থেকে ফিরছে সে। জুবায়ের কাছে আসছে দেখে ললিতা তার মেয়েকে তোয়ালে দিয়ে আরও ভাল করে ঢেকে নেয়
— কেমন আছো ললিতা?
— ভালোই।
— ভয় নেই ললিতা, এভাবে মেয়েকে ঢাকতে হবেনা। আমিও মেয়ের বাবা হতে যাচ্ছি, হয়তো জানো তুমি।
— হ্যাঁ জানি,অাল্লায় যেন সবাইরে ভাল রাখেন।
— আমাকে ক্ষমা করতে পেরেছো তো?
— ক্ষমা করার আমি কে? আল্লায় যেন আপনারে ক্ষমা করে।
— তুমি ক্ষমা করো আমায়।
— শারমিন আপারে কোনদিন দুঃখ দিয়েন না। তাইলেই ভাববেন আমি আপনারে ক্ষমা কইরা দিছি।

-অরুন্ধতী অরু