শীত বিড়ম্বনা

এই শীতের রাতে শুধু একটা হ্যাফ প্যান্ট পরে শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে হাজির হলাম। আমার এই অবস্থা দেখে শ্বশুর বাড়িতে হইচই শুরু হয়ে গেলো। সাদিয়ার আব্বা-ই প্রথম জিজ্ঞাস করলো “কি হইছে জামাই এমন অবস্থা কেন? ” আমি শীতে কাঁপতে কাঁপতে বললাম ” আব্বা ডাকাত ধরেছিল। সাংঘাতিক ডাকাত। কাপড়চোপড় সহ সব ডাকাতি করে নিয়েছে”। সাদিয়ার আব্বা মুখ কাচুমাচু করে বললো ” তাই বলে তুমি এই হ্যাফ প্যান্ট পরে শ্বশুর বাড়িতে আসলা! তোমার লজ্জা করলো না? আমার বংশের তো একটা সম্মান আছে”। আমি শীতে কাঁপতেই কাঁপতেই উত্তর দিলাম “আব্বা এই হ্যাফ প্যান্ট যে ওরা দয়া করে নেয়নি এটাই আপনার বংশের কপাল”। দেখো জামাই আমার বংশ নিয়ে কোনো কথা হবে না। তুমি ডাকাতদের বলো নাই তুমি কার জামাই? আর সহ্য করতে পারলাম না। সোজা শ্বশুরের মুখের উপর বলে দিলাম আমার এই অবস্থার জন্য আপনি দায়ী। আপনার জন্য আমার এই অবস্থা হয়েছে।

শ্বশুর আমার কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লো।
জামাই কি হইছিল কও তো? আমি বললাম শুনবেন?৷ আচ্ছা শোনেন।

গাড়ী থেকে নেমেই গ্রামের রাস্তা দিয়ে আসতেই ডাকাদের হাতে পড়লাম। ওরা বললো কাছে যা যা আছে সব দিয়ে দিতে। আমি ওদের সর্দার কে বললাম ” আমি এই এলাকার জামাই, আমার শ্বশুরের নাম শুনলে প্যান্টের মধ্যে হিসু করে দিবেন”। ডাকাতদের সর্দার আমার গালে একটা থাপ্পড় দিয়ে বললো ” তুই কি ভাবছিস আমার ডায়বেটিস আছে! যে তোর শ্বশুরের নাম শুনলে হিসু করে দিবো?” তারপর ডাকাত দলের বাকি সদস্যদের দিকে তাকিয়ে বললো ” তোদের মধ্যে কারো ডায়বেটিস আছে নাকি রে? সবাই সাথে সাথে বলে উঠলো ” না সর্দার “।

এবার উনি আমার দিকে তাকিয়ে বললো ” আচ্ছা বল তোর শ্বশুরের নাম। যদি তার নাম শোনার পর আমার হিসু পায় তাহলে তোকে ছেড়ে দিবো। আর যদি না পায় তাহলে এই শীতের রাতে হ্যাফ প্যান্ট পরে তোকে তোর শ্বশুর বাড়ি পাঠিয়ে দিবো।

ডাকাতের কথা শুনে কলিজা শুকিয়ে গেলো। এই শীতের রাতে হ্যাফ প্যান্ট পরে শ্বশুর বাড়ি গেলে ইজ্জত থাকবে না। মনে মনে সাহস নিয়ে বললাম ” আমার শ্বশুরের নাম “কুদ্দুস”। তারপর আমার চারপাশ সব নীরব হয়ে গেলো। ডাকাত দলের সব সদস্যরা চুপচাপ। মনে মনে ভাবলাম কাজ হয়েছে। আল্লাহ রক্ষা করেছে। কিছুক্ষণ পর ওদের সর্দার বলে উঠলো ” কিরে তোদের কারো ওর শ্বশুরের নাম শুনে হিসু পেয়েছে রে? আবার সবাই একসাথে বলে উঠলো ” না সর্দার, পায়নি”। তখন ওদের সর্দার বললো ” আমারো পায়নি। ধর শালারে। শালার সাথে যা যা আছে সব নিয়ে নে। ও গায়ে যেন হ্যাফ প্যান্ট ছাড়া কিছু না থাকে। তারপর আব্বা ওরা সব ডাকাতি করে নেয় আমার থেকে। আমি অবশ্য ইচ্ছে করলে ওদের সাথে মারামারি করতে পারতাম। কিন্তু আপনার মেয়ের ভবিষ্যৎতের কথা ভেবে মারামারি করি নাই। আমার কিছু হলে আপনার মেয়ের কি হবে।

সাদিয়ার আব্বা আমার কথা শুনে বললো ” আসছে আমার পালোয়ান জামাই হ্যাফ প্যান্ট পরে”। ওরে সাদিয়া কই আছিস? দেখ তোর জামাই আসছে। সাদিয়া আমার সব কথা শুনে বললো ” তোমার কি কোনো লজ্জাসংকোচ নাই? শ্বশুর বাড়ি কেউ এভাবে আসে। মাথা আর ঠিক রাখতে পারলাম না। বললাম ” জীবন নিয়ে ফিরে এসেছি এটা তোমাদের কাছে কিছু না? অথচ হ্যাফ প্যান্ট পরে এসেছি এতেই তোমাদের সমস্যা…..।

সাদিয়ার সাথে ঝগড়া করা ঠিক হয়নি। ও রাগ করে অন্য রুমে ঘুমিয়েছে। আমি শুইলাম ওর আব্বার সাথে। দুইজন মানুষ ছোট একটা লেপ। নড়াচড়া করলেই শীত লাগে। লেপের মধ্যে শুয়েও মাড়ি কাঁপে।

-আব্বা ঘুমিয়েছেন?

না, জামাই। কেন?

-আপনাকে না বলেছিলাম আপনার পাইলসের
অপারেশন হয়ে গেলে আপনার সাথে ব্যাংককে যাবো। হাফ প্যান্ট পরে জামাই শ্বশুর সমুদ্রে দৌঁড়াবো।

জামাই এই রাতে ফাইজলামি বাদ দাও। এমনেই শীত লাগে।

-জ্বী আব্বা, কথা ঠিক বলছেন। আসেন দুইজন গলাগলি ধরে ঘুমাই। শীত লাগবে না।

ওই বলদের ঘরের বলদ। তুই গুরুজনের সম্মান দিতে জানিস না? কেউ শ্বশুরের গলা ধরে ঘুমায়? ছোট বেলায় পড়ো নাই? গুরুজনের শরীর পা লাগানো নিষেধ?

-জ্বী আব্বা, পড়েছি। তবে অবস্থা বুঝে মাঝেমধ্যে নিয়মের ব্যতিক্রম হতে পারে কিন্তু আব্বা।

-ঐ হারামজাদা চুপ থাক। নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম হবে না। চুপচাপ ঘুমা।

কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম খেয়াল নেই। ঘুম ভেঙ্গে গেলো কারো শরীরের সাথে শরীর চেপে ধরার সময়।

-আব্বা, আপনি না বলেছিলেন গুরুজনের শরীর সাথে পা লাগানো নিষেধ? তাহলে এমন চাপাচাপি করে শুয়েছেন কেন?

জামাই আজকে এমন ঠান্ডা পড়ছে যে লেপের মধ্যে শুয়ে দাঁতের মাড়ি কাঁপতেছে। বেশি কথা বলিস না। চাইপা আয় আমার দিকে দুই জামাই শ্বশুর গলাগলি ধইরা ঘুমাই।

-আসো বন্ধু।


-রিফাত আহমেদ