শোধ ( ১ম পর্ব )

(পেছনের কথাঃ ২০০৮ সালের আগষ্ট মাসের ১৩ তারিখে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকায় ‘সন্তান বিক্রি করে দেনা শোধ’ শিরোনামে একটি খবর ছাপা হয়। খবরটি পড়ার পর মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। আমরা কোন জগতে বাস করছি? এমন কি অভিশাপে একজন মাকে তার সন্তান বিক্রি করে দিতে হয়? সমাজের নিষ্ঠুরতা এবং সন্তান বিক্রেতা একজন মায়ের এই ঘটানাটি নিয়েই এই গল্প ‘শোধ’। আর্কাইভ থেকে-)

নারায়নগঞ্জের শীতলক্ষ্যার পাড়ে ১৩১ নম্বর নুলুয়া রোডের একটা জরাজীর্ন বাসা। এখানে ভাড়া থাকে শিলা ও শফিকুল নামের এক তরুন দম্পতি।

তিন বছর আগের কথা। নানা বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে দিনমজুর শফিকুলের প্রেমে পড়ে শিলা। প্রেমের ধারাবাহিকতায় তাদের বিয়ে হয়, কিন্তু কোন পরিবারই এ বিয়ে মেনে নেয় না। অগত্যা শফিকুল তার নব বধু শিলাকে নিয়ে নারায়নগঞ্জের এই ভাড়া বাসায় এসে উঠে। অভাব অনটনের মধ্যে থাকলেও তাদের সংসারে ভালোবাসার কমতি ছিল না কখনই। তার ফলশ্রুতিতে তাদের ঘরে আসছে নতুন অতিথি। ভোর রাতে শিলার ব্যাথা শুরু হলে শফিকুল মহল্লার পরিচিত ধাত্রী রহিমা খালাকে ডেকে নিয়ে আসে। সেই তখন থেকেই শফিকুল উঠোনে অপেক্ষা করছে। অস্থির ভাবে পায়চারি করে আর ঘরের দিকে বারে বারে তাকায়। অপেক্ষা করতে করতে শফিকুল ভাবতে থাকে সংসারে যে নতুন মানুষটি আসছে তার কথা। আয়-রোজগার তেমন নেই। সংসারে খরচ বাড়বে, আল্লাহই জানে কি হবে।

সদ্য প্রসুত শিশুর কান্নার শব্দে সম্বিত ফিরে পেল শফিক। আর তখনই ভেতর থেকে ধাত্রী রহিমা খালার উচু গলার আওয়াজ শোনা গেল, ‘শফি, অ মিয়া দেইখ্যা যাও। অ শফি…’

দ্রুত দরজার কাছে গিয়ে এক পাস ঠেলে সে জানতে চাইল, ‘ছেলে হইছে না মেয়ে, খালা?’ উত্তেজনায় রিতীমত কাঁপছে শফিক।

‘আরে পোলা অইছে, পোলা। চান্দের লাহান ফুটফুইট্যা। কাছে আইস্যা দ্যাহ।’

দরজাটা সম্পুর্ন ঠেলে ভিতরে ঢুকেই শফিক দেখতে পেল শিলা কে। চাদের মত সুন্দর ফুটফুটে একটা বাচ্চা কোলে নিয়ে শুয়ে আছে। সদ্য মা হওয়ার প্রসব বেদনার ছাপ সুস্পষ্ট, কিন্তু সেই কষ্ট ছাপিয়ে তার চোখে মুখে খুশির ঝিলিক দিচ্ছে। ধীর পায়ে এগিয়ে যেতেই শিলা বাচ্চাটিকে তুলে দিল স্বামীর হাতে। ছেলে কোলে নিয়ে শফিক তাকিয়ে থাকল, অপলক।

‘মাশাল্লাহ! তুই তো ব্যাটা আমার চাইতেও সুন্দর হইছস দেখি। ও শিলা, দেখছ, কেমনে পিটপিট কইরা চায়!’

শফিকের ছেলে হয়েছে এই আনন্দে তার বন্ধুরা আজ তাকে পেয়ে বসেছে। মহল্লার চায়ের স্টলে চা-সিঙ্গারা খেতে খেতে এক বন্ধু শফিকের উদ্দেস্যে বলল, ‘কিরে শালা, তোর যে একখান পোলা হইল, এখনও মিষ্টি খাওয়াইলি না। মিষ্টি খাওয়াবি কবে?’

‘খাওয়াব, অবশ্যই খাওয়াব। একটু দেরী কর না বেটা। একটু টানাটানির মধ্যে আছে। তোদের সবাইরে দাওয়াত কইরা খাওয়াব।’ অনিশ্চিত ভাবে উত্তর দিল শফিক।

কিন্তু দ্বিতীয় বন্ধু নাছোড়বান্দা। সে নগদ খেতে চায়। সে বলল, ‘কিন্তু দোস্ত, এক্কেবারে খালি মুখে শুভ সংবাদ, ক্যামনে হয়… না, না দোস্ত, এইটা তো হবে না। তাইলে এক কাজ কর, আজকের এই চা-সিঙ্গারার পয়সাটা দিয়ে দে, মিষ্টি-ফিষ্টি আরেকদিন খামুনে।’ বলেই সে অন্য বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলল, ‘এই, চল যাই, অন্য কামের ধান্দা করি। সারাদিন চায়ের স্টলে পইড়া থাকলে চলব?’

‘হ, চল যাই।’ বলেই সবাই বেরিয়ে গেল। যাবার সময় এক বন্ধু দোকানীকে বলল, ‘চাচা, বিলটা শফিকরে দিয়েন।’

শফিক কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ওর সব বন্ধুরা চলে গেল। সে অসহায় ভাবে দোকানদার চাচার দিকে একবার শুধু তাকাল। সে কি করবে বুঝে উঠতে পারল না। পকেটের কথা চিন্তা করে ওর কপালে চিকন ঘামের রেখা দেখা দিল। সে বাইরের দিকে চিন্তিত মুখে তাকিয়ে রইল।

‘ও মিয়া শফি। বাকীর খাতা তো ভইরা ফালাইছ। কিছু কিছু কইরা শোধ দ্যাও। নইলে তো আর চলে না। আর কিন্তু বাকী দিবার পারমু না।’

দোকানদার চাচার কথায় শফিক ঘুরে তাকাল। ‘অ্যাঁ, হ্যাঁ। দিয়ে দিব চাচা, সব টাকাই দিয়ে দিব।’ অন্যমনষ্ক ভাবে উত্তর দিল সে।

‘দিয়া দিবা যে কইতাছ, দিবাটা ক্যামনে? খরচ তো এহন আরও বাড়ল।’দেবার মত কোনো উত্তর নেই শফিকের। সে অসহায় দৃষ্টিতে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল।

মহল্লার মুরুব্বী নওয়াব আলী, পয়সাওয়ালা লোক বিধায় নিজেকে মাতবর মনে করে। সে কাঁচামালের ব্যবসা করে। সহায় সম্পদও তার কম না। কথা-বার্তায় বড়ই পন্ডিত। এই কারনেই সকলে তাকে বেশ মান্য করে। বিপদে মাঝে মাঝে শফিকুল নওয়াব আলীর কাছে ধরনা দেয়। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু টাকা সে ধার করেছে নওয়াব আলীর কাছ থেকে। শফিকুলের দিনকাল খারাপ। ঘরে নতুন সন্তান এসেছে। খরচ বেড়েছে অনেক। উপায়ন্তর না দেখে সে আবার শরণাপন্ন হলো মাত বরের সামনে।

হুক্কায় একটা লম্বা টান দিয়ে নাকে-মুখে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে নওয়াব আলী বিরক্ত মুখে বলল, ‘ঘরে সন্তান আসছে–ভালো কথা। সে আবার ছেলে সন্তান—অতি উত্তম কথা। সংসারের চিন্তাটা আগে করবার পারস নাই?’

শফিকের মুখে কোনো উত্তর নেই। সে চুপ করে থাকল। নওয়াব আলী তার দিকে তাকিয়ে আবার বিরক্ত মুখে বলল, ‘সু-সন্তানের খরচ দিবার পারবি না—সেই মুরোদ তোর আগেই ছিল না। এখনও নাই। তা এই হিসেবটা আগে করো নাই ক্যান মিয়া শফি?’

‘এত কিছু তো চিন্তা করতে পারি নাই।’

‘তা পারবা ক্যান?’ বলেই নওয়াব আলী আবার হুক্কায় টান দেয়। দোয়া ছেড়ে বলল, ‘তো্রেই বা দোষ দেই ক্যামনে। ঘরে অল্প বয়সী সুন্দরী বউ থাকলে, হিসেবের একটু গরমিল তো হবেই।’

শফিকের মেজাজ গরম হলো। তবুও সে হাসি হাসি মুখ করে বলল, ‘বড় ভাই যে কি বলেন?’

‘তোর বউ ভাগ্য বড় ভাল রে শফি। লোক মুখে শুনলাম তোর সন্তানটিও নাকি হয়েছে খুব সুন্দর। তা তো হবেই—সুন্দরী রমনীর গর্ভের সন্তান সুন্দর হবে, এ আর বিচিত্র কি?’

‘বড় ভাই, এইবারের মত কিছু ব্যাবস্থা করে দেন। আপনার সব টাকা আমি দিয়া দিব।’

‘নোয়াব আলী তো টাকার গাছ লাগায়া বইসা নাই রে শফি। যে চাইলি আর গাছ থিকা টুপ করে ছিড়া আইনা দিলাম।’

শফি কি বলবে বুঝতে পারে না। সে মাটির দিকে তাকিয়ে রইল।

‘টাকা তো তুই ফিরত দিবার পারবি না। তোর মত ভাদাইম্ম্যারে টাকা হাওলাত দেয়া আর টাকা পানিতে ফালানো একই কথা।’

শফিক তবু হাল ছাড়ে না। সে তাকিয়ে থাকে নওয়াব আলীর দিকে।

‘যে হারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, নিজের সংসারই ঠিকমত চলে না। জনসেবা করার কোনো খায়েস আমার নাই।’ বলেই নওয়াব আলী তাকালো শফির দিকে।

শফিক কিছুই বলতে পারল না।

‘আরেকবার কিছু টাকা আমি তোরে দিবার পারি, তয় সুদ একটু বেশি পরব। রাজি থাকলে ক।’

‘আমি রাজি।’

শফিক যখন ফিরে এলো, তখন দিন প্রায় শেষ। সে ঘরে ঢুকতেই শিলা এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘বাজার আনছ কিছু? সিয়ামের দুধ শেষ।’

‘আর বাজার… কেউ তো আর বাকীতে কিছু দেয় না। আগের টাকা শোধ না দিলে কেউ আর বাকী দিব না কইছে। দোকানে বাকী পড়ছে, বাসা ভাড়া বাকী পড়ছে, পাওয়ানাদারদের যন্ত্রনায় তো রাস্তায় বাইর হওয়াই দায় হইছে।’ ঘামে ভেজা জামা ছাড়তে ছাড়তে শফি বলল।

শিলা আবার জানতে চাইল, ‘নোয়াব আলী ভাইর কাছে গেছিলা?’

‘হ, গেছিলাম।’

‘উনি কি বললেন?’

‘কুড়ি পার্সেন্ট সুদের নীচে টাকা ধার দিবে না।’

‘তুমি কি বললা?’

‘কি বলব, রাজি হইলাম। রাজি না হইয়া তো কোনো উপায়ও নাই। কাইল যাব টাকা আনতে।’

শিলা অনিশ্চিত ভাবে তাকাল শফির মুখের দিকে। দুধের বাচ্চা সিয়াম বিছায়নায় কেঁদে উঠল। শিলা চিন্তিত মুখে বাচ্চা কোলে নিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করল।

ভালই চলছিল শিলা আর শফিকের সংসার। কিন্তু সিয়ামের জন্মের পর থেকে খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের সংসারে বাড়তে থাকে অভাব-অনটনও। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতিতে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করা রীতিমত দুরহ হয়ে পরেছে শফিকের জন্যে। মহল্লার দোকান গুলোতে বাড়তে থাকে বাকীর পরিমান।

দিন যায়, মাস যায় কিন্তু শফিকের আয় রোজগারের কোনো উন্নতি হয় না। উপরন্তু বেশ কিছুদিন হলো তার হাতে কোনো কাজ নেই। কাজের সন্ধানে সারাদিন ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে বাড়ী ফেরার মধ্যে সময় কাটে তার। এদিকে ঋনের বোঝা বেড়েই চলেছে। এক মাস দু মাস করে বাড়ি ভাড়াও বাকী পরে যায় চার মাসের।

ঘরে ফিরে ক্লান্ত শফিক শুয়ে ছিল বিছানায়। দরজায় ঠক ঠক শব্দ শুনে দরজা খুলে দিয়ে সে দেখল বাড়িওয়ালা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মোটামুটি নরম সুরেই বাড়ীওয়ালা বলল, ‘এই যে বাবা শফিক, চার মাসের ভাড়া বাকী পড়ছে। কিছু একটা করো।’

শফিক বুঝতে পারছে, বাড়িওয়ালা সদয় না হলে তার পক্ষে এখানে থাকা সম্ভব হতো না। গত তিনমাস সে একই কথা বলে এসেছে। এবার কি বলবে, ভেবে পেল না।

‘তুমি তো বাবা জানই, এই বাসা ভাড়ার টাকা দিয়াই আমার সংসার চলে। ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ চলে। এইদিকে জিনিসপত্রের দাম যে হারে বাড়ছে…’

‘দিয়ে দিব চাচা। আপনার ভাড়ার টাকা আমি অবশ্যই দিয়া দিব। একটু টানাটানির মধ্যে আছি।’

‘গত তিনমাস ধইরা এই একই কথা বলতেছ। আর তো বাবা সময় দিতে পারব না। ভাড়া দিতে না পারলে বাসা ছাইড়া দাও, আমি অন্য ভাড়াটিয়া দেখব।’ বাড়িওয়ালার কন্ঠে আর বিনয় থাকে না। সে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল।

‘তাইলে আমরা যাব কোথায়?’ শফিক নিজের মনেই বলল।

‘কোথায় যাবা সেইটা তোমাদের বিবেচনা, আমার না। এই আমি শেষ বারের মত বইলা দিয়া যাইতেছি, ভাড়া দিতে না পার, দয়া কইরা অন্য কোথাও চইলা যা। নাইলে কিন্তু আমি অন্য ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।’

‘অন্য কি ব্যবস্থা নিবেন?’

‘সেইটা সময় হইলেই বুঝতে পারবা।’ বড় ধরনের একটা হুঙ্কার দিয়ে বাড়িওয়ালা চলে গেল। শফিক তাকিয়ে থাকে তার চলে যাওয়া পথের দিকে, অনিশ্চিত দৃষ্টিতে।

একদন দুপুরে মহল্লার মুদি দোকান থেকে সংসারের অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি জিনিষ নিয়ে বের হবার সময় দোকানী জিজ্ঞেস করল, ‘টাকা আনছ?’

শফিক চুপচাপ মাথা নেড়ে জানায়, টাকা নেই। বাকীতে নিতে চায়।

দোকানী মজিদ মিয়া অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে বলল, ‘তুমারে তো আর বাকী দিমু না। মেলা দিছি আর দেওন যাইব না।’

‘মজিদ ভাই, এই বারই শেষ। সামনের মাসেই আমি আপনার সব টাকা দিয়ে দিব।’

‘বাদ দেও মিয়া সামনের মাস। তুমার সামনের মাস আর জীবনেও আইব না। হু সামনের মাস!’

শফিক মিল্কভিটার প্যাকেটটি হাতে নিয়ে অনুনয় করে বলল, ‘কিছু না দেন, এই দুধের প্যাকেটটা খালি দেন। বিশ্বাস করেন, সামনের সপ্তাহেই আমি আপনের সব টাকা শোধ দিব। বাচ্চাটা না খাইয়া আছে।’
‘আমি কি মিল্কভিটার কোম্পানী খুইল্যা বসছি? না কোম্পানীয়ালারা আমারে মাগনা দুধ সাপ্লাই দেয়?’ বলেই মজিদ মিয়া দুধের প্যাকেটটি ছিনিয়ে নিয়ে সরিয়ে রাখল অন্য পাশে। তারপর বলল, ‘বহুত দিছি-আর দিবার পারব না। বাকীর খাতা বন্দ। এইবার তুমি বিদায় হও।’

শফিক নির্বাক দৃষ্টিতে মজিদ মিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। সে বুঝতে পারছে না আর কি বললে তার দিলে একটু দয়া হবে। সে আরো কিছুক্ষন অপেক্ষা করে ধীর পায়ে বের হয়ে গেল দোকান থেকে।

দোকান থেকে বের হয়ে উদভ্রান্তের মত হাঁটতে থাকে শফিক। দিশেহারা, ক্লান্ত শফিক ধীর পায়ে রাস্তা পার হতে গেল। ব্যস্ত রাস্তায় দ্রুতলয়ে ছুটে চলেছে গাড়ি, বাস, ট্রাক। অন্যমনস্ক ভাবে রাস্তা পার হবার সময় হঠাৎ করে তার সামনে এসে কড়া ব্রেক করে দাড়াল একটা ৫টনি ট্রাক। ব্রেকের বিকট শব্দে শফিক হুশ ফিরে পেল এবং নিজেকে আবিস্কার করল রাস্তার মাঝখানে সে দাঁড়িয়ে আছে। গাড়ির হর্ন, মানুষের চিৎকার আর ট্রাকের হেল্পারের ধাক্কায় শফিক ছিটকে পড়ল রাস্তার অন্যপাশে।

(চলবে…)

ফরহাদ হোসেন
লেখক-নির্মাতা
ডালাস,টেক্সাস