স্মৃতি পোড়া ছাই

আবর্জনা ভেবে একদিন সব পুড়িয়ে দিলাম,
দিস্তা দিস্তা কাগজ,হয়তো চিঠিগুলো,
সাদা,নীল,হলদে খাম,কিছু পোস্টকার্ড,
ডাকটিকিট এ্যালবাম, রঙিন কিছু দিন।
পুড়ে গেলো গোপালপুর, পুড়ে গেলো রাধানগর,
লাহিড়ী পাড়া,জিলাপাড়া,আরো কত!
পুড়ে যায় স্কুলে যাবার পরিচিত পথ,
এক জোড়া চোখ,দুর্বার সাইকেল,
অপেক্ষারা তখন ধুসর,ছাই পোড়া।
পুড়ছে শত শত ফাগুন,ছেলেবেলা,
ব্যাডমিন্টন কোর্ট ,ক্যারাম বোর্ড,
এক্কাদোক্কা খেলা, স্বাচ্ছন্দ্য অবাধ স্বাধীনতা।
পুড়ে পুড়ে যায় রুপকথা,বানী হল,
কলিজার সিংগারা,প্যারাডাইস,লক্ষী ঘোষ!
পুড়ে নিদারুন,লাল আইসক্রিম,চাকী বাড়ী,
আড্ডা রায় বাড়ী,সরব পুরাতন ব্রীজ,
মিনার্ভা স্টুডিও,সাদাকালো।
পোড়ে নিউমার্কেট,জোড় বাংলা,
অনুকূল ঠাকুর,হেমায়েতপুর।
পোড়ে ইছামতি,প্রমত্ত পদ্মা,
অর্থবহ সব সকাল সন্ধ্যা।
পুড়ে যায় শালগাড়িয়া,লাইব্রেরী বাজার,
বলরামপুর, আর দিন উজার,
ষড়ঋতুর আয়োজন,কোজাগর রাত।

এখন কেবলই স্মৃতি ধোঁয়া ছাই,
স্মৃতিপোড়া গন্ধ,কুন্ডলীকৃত কালো,
আকাশে নেই নীল,বাতাসে ভারী ধোঁয়া,
নেই কোন স্বাদ,বর্ণহীন জীবনের ছায়া।
হেঁটে হেঁটে এতটা পথ এসেছি, ফেলে আসা দিন আর আসে না পথে,
রাঙে না জীবন,রঙ রঙ যত মেলা।

এখন কেবলই দাউদাউ আগুন,
ছাই ছাই দিনের খেলা,
পোড়ে কি তবে মন! বিষাদের কালো ছায়া,
আর কিছু মন পোড়া গন্ধ, আহা মায়া!!!

-ফারহানা নীলা