F.I.R ফাইল -37

১.

আমার চার বছরের একটা মেয়ে , বছরখানেক আগে সদর ঘাটে হারিয়ে যায়। ওর নাম ছিল রুকাইয়া, আমি আদর করে ডাকতাম পরী। খুব ছটফটে ছিল, সারাক্ষণ কথা বলত। সেদিন আমাদের দেশের বাড়ী যাবার কথা ছিল। আমি তাকে লঞ্চঘাটের ওয়েটিং রুমে বসিয়ে একটু দূরে ফেরিওয়ালার কাছ থেকে চকলেট কিনছিলাম, বারবার তাকাচ্ছিলামও ও’র দিকে। তখনও সে পা দুলিয়ে হাত নাড়িয়ে কথা বলছিল একা একাই। ফেরিওয়ালার কাছে ভাংতি টাকা ছিলনা, ফেরত দিতে দেরী করছিল। পকেট হাতড়ে সব মিলিয়ে যখন সে ফেরত টাকা দিল, আমি ঘুরে দেখলাম বেঞ্চে আমার মেয়েটা নেই। প্রথম ভাবলাম হেঁটে সামনের দিকে গেছে। আমি পাগলের মত পুরো লঞ্চঘাট খুঁজলাম, পাশে থাকা অন্য যাত্রীদের জিজ্ঞেস করলাম, কেউ কিছু বলতে পারলনা। আমার মেয়েটা লঞ্চঘাট থেকে উধাও হয়ে গেল আচমকা।

গলা ধরে এলো মুনার, লম্বা করে শ্বাস নিল সে– ‘আমার এখনো বিশ্বাস হয়না মেয়েটা নেই। আমি সারাক্ষণ তাকে দেখি, হাত নাড়িয়ে কথা বলছে, গান গাইছে, খিলখিল করে হাসছে, আমি কাছে গেলেই মিলিয়ে যায় ; আর দেখিনা তারে কোথাও। বুকটা তখন ফেটে যায় আমার! চিৎকার করে কাঁদি, দেয়ালে মাথা ঠুকি, ছুটে রাস্তায় চলে যাই, সহ্য করতে পারিনা এই যন্ত্রণা! বাঁচতে ইচ্ছে করেনা আমার! মরে যেতে চেয়েছি অনেকবার, কিন্তু তখন মনে হয় ও’ যদি ফিরে আসে! আমার বাচ্চাটাকে খুঁজে দিন প্লিজ! ‘ মুনা আকুল হয়ে কাঁদতে লাগল।

মোস্তাক তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ, খারাপ লাগছে তার। ‘মিসিং কমপ্লেইন করেছিলেন তখন?’

‘হ্যা, এ থানাতেই। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কিছুই করতে পারেনি।’

‘আপনার স্বামী কোথায়?’

‘ও’তো অফিসে।’

‘বাচ্চার ছবি এনেছেন?’

‘হ্যা। ‘

ছবি হাতে নিয়ে মোস্তাক ধাক্কা খেল। তার সাত বছরের মেয়েটা এই বয়সে প্রায় এমনই ছিল দেখতে। শক্ত ইউনিফর্মের আড়ালে ঢাকা শরীরটা কেঁপে উঠল তার। ‘দেখুন, ঢাকা শহরের থানা গুলোতে প্রতিদিন এমন কয়েকটা মিসিং কমপ্লেইন হয়, বেশীর ভাগ বাচ্চাগুলোকে খুঁজে পাওয়া যায়না। আর সেখানে এক বছর অনেক সময়! খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন ব্যাপার, প্রায় অসম্ভব বলতে পারেন। তবুও আমি চেষ্টা করব আন্তরিক ভাবে। থানার নম্বর টা জানেন তো?’

মুনা থানার বাইরে দাঁড়াল। বাসস্ট্যান্ডের দিকে পা বাড়িয়েও থেমে গেল। হাঁটতে হাঁটতে চলে এলো সদরঘাট। এসময়ে একদম ফাঁকা থাকে জায়গাটা। ওয়েটিংরুমের বেঞ্চে বসে রইল চুপচাপ। পাশের জায়গাটুকুতে সন্তর্পণে হাত রাখল, ফিসফিস করে বলল — ‘পরী মা, চকলেট খাবে আম্মি! একটা লাল ফ্রক কিনেছি তোমার জন্য, ছোট্ট একজোড়া লাল জুতা আর দুইটা লাল ক্লিপ! তুমি যে আমার লাল পরী! সেজন্য। আসোনা মা! রাগ করেছো? মাফ করে দাও না মাকে!’

‘আফনার কি হইছে; এমন কইরা কানতাছেন ক্যান?’

মুনা মাথা তুলল। ৭/৮ বছরের একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে বিস্ময় নিয়ে। চোখ সরিয়ে নিল সে, তাকিয়ে রইল শুণ্যদৃষ্টিতে। টিকিট কাউন্টারের বয়স্ক ভদ্রলোকটি কাছে এলেন, ‘আজ আবার আসছেন! এমন করে কান্নাকাটি করে কি লাভ বলেন! কোন খোঁজ পেলে সাথে সাথে খবর দেব আমরা। ফোন নম্বর, ঠিকানা সব রাখা আছে যত্ন করে।’

মুনা উঠে দাঁড়াল, ধীরেধীরে চলে এল টার্মিনালের বাইরে। ছেলেটা পিছু ছাড়েনি। মুনা ফিরে তাকাল ‘চকলেট খাবি?’ ব্যাগ থেকে চকলেট বের করল সে। অপ্রত্যাশিত স্নেহের প্রতিউত্তর দিতে অভ্যস্ত নয় এরা। চকলেট হাতে নিয়ে ছেলেটা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল মুনার চলে যাওয়া পথের দিকে।

২.

মোস্তাক এ থানায় বদলী হয়ে এসেছে মাত্র একমাস। সবকিছু গুছিয়ে উঠতে পারেনি এখনো। লাঞ্চের পর কনেস্টেবল রফিককে নিয়ে ফাইল ঘেটে কাগজপত্র বের করল। ফাইল নম্বর –37। এখানেও একটা ছবি আছে বাচ্চাটার। ঠোঁটে লিপস্টিক দেয়া, দাঁতেও লেগে আছে খানিকটা। এত মায়া চেহারায়! পৃথিবীর সব বাচ্চাদের চেহারাতেই মায়া থাকে। মনটা খারাপ হল প্রচণ্ড। ঘন্টাখানেকের মধ্যে সেকেন্ড অফিসার সাজ্জাদকে নিয়ে একটা লিস্ট তৈরী করে ফেলল। সদরঘাট এলাকার ছোটখাটো যত অপরাধচক্র আর সিন্ডিকেট আছে, সবাইকে জিজ্ঞেস করতে হবে একে একে। কোন না কোন সূত্র তো নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ফেরিওয়ালা, দোকানদার, অফিসিয়াল কর্মচারী গুলোকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। মোস্তাক বেরিয়ে গেল, এটাই সঠিক সময়। আরেকটু পরেই ব্যস্ততা শুরু হয়ে যাবে এই এলাকায়।

পরপর ছ’টা দিন কেটে গেল। শুরুতে মনে হয়েছিল পরিকল্পনা মাফিক এগোলে কাজ এগুবে। কিন্তু গত এক সপ্তাহে কোন সূত্র খুঁজে পেলনা মোস্তাক। কেউ কিছুই বলতে পারছেনা। একবছর লম্বা সময়, হাজারও ঘটনার জন্ম হয়েছে এর মধ্যে।মানুষ কত মনে রাখবে। টিকিট কাউন্টারের ভদ্রলোক জানালেন — একজন মহিলা আসেন ক’দিন পরপর, তার বাচ্চাটাকে খোঁজেন, ওয়েটিং রুমে বসে কাঁদেন, তারপর চলে যান। ফেরিওয়ালাগুলোও একই কথা বলল। বুঝতে পারছেনা মোস্তাক কিভাবে এগুবে। দারুণ চিন্তিত হল সে, সাজ্জাদকে ডাকল ‘কি করি বলতো! কেউতো কিছুই বলতে পারছেনা! খুব খারাপ লাগছে জানো! বাচ্চাটার মা-বাবার কথা ভাবতেছি, কি যন্ত্রনার মধ্যে দিন কাটাইতেছে!’

‘স্যার একটা বিষয় মাথায় আসছে! ঐ এলাকার খুব পুরনো লিডার ছিল মাজেদ। থাকে গুলিস্তানের দক্ষিণদিকের এলাকায়। এখন অবশ্য নিজে কোন কাজ করেনা, লোক দিয়ে করায়। খবর আছে আমার কাছে। বলেন তো ওরে খবর দেই। যেহেতু পুরানো লোক, ওর কাছে সাহায্য পেতে পারি আমরা।’

‘আচ্ছা দাও। আমি খুব করে চাইতেছি মেয়েটার হদিস জানতে। সে’তো হাওয়া হয়ে যেতে পারেনা! কোথাও না কোথাও নিশ্চই আছে। যদি মরে যায়, তাও তো একটা রেকর্ড থাকবে!’

৩.
গত তিনমাসে থানায় যাওয়া হয়েছে বেশ কয়েকবার। এই অফিসারও কিছুই করতে পারলনা। মুনা বারান্দায় দাঁড়াল। দুপুরের এই সময়টা কেমন নিরব। আনিস বলেছে আজ তাড়াতাড়ি আসবে, তাকে নিয়ে নতুন বাসা দেখতে যাবার কথা। বাড়ীওয়ালা ভাড়া বাড়িয়েছে। একার আয়ের সংসার, বাড়তি এই ভাড়া বহন আনিসের জন্য অসম্ভব প্রায়। সে নিজেও চায়না এবাড়ীতে থাকতে। মেয়েটার স্মৃতি জড়িয়ে আছে সমস্ত ঘরটায়। বারান্দার এই গ্রিলটা বেয়ে বেয়ে উপরে উঠত, কাপড় শুকানোর রশিতে যে লাল রঙের ক্লিপগুলো, খুলে ফেলে দিত নিচে। পায়ের তলায় পড়ে কত ক্লিপ যে ভেঙেছে! রাগ হত খুব, খুব বকত মেয়েটাকে মাঝেমাঝে। এই দরজার পেছনে গিয়ে লুকাতো তখন। বারান্দার দেয়ালে পেন্সিল দিয়ে আঁকা এই ছবিগুলো, মেয়েটা কথা বলে বলে ছবি আঁকত। সে বলত ‘এত কথা কেমনে বলিস পরী! মুখ ব্যথা হয়ে যায়না তোর!’ কথা বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকত, মুচকি হাসত, তারপর আবার শুরু করত। দেয়ালের আঁকাবাঁকা ছবিগুলোতে হাত বোলালো মুনা। চোখগুলো ঝাপসা হতে লাগল ক্রমশ, বুকের বা’পাশটা টনটন করছে, আহ! এত যন্ত্রণা কেন হয় বুকটার ভেতর!

একটানা ডোরবেল বাজছে। আনিস এত অস্থির! খুলবার জন্য দরজা অবধি আসতে যতটুকু সময় লাগে, এর মধ্যে চার বার বেলটা বাজানো হয়ে গিয়েছে। দরজা থেকে সরে দাঁড়াল মুনা, কপালের মধ্যখানে সরু ভাঁজ নিয়ে আনিস সোজা বাথরুমে ঢুকে গেল। মানুষটা খুব অল্পতেই বিরক্ত হয়। বিয়ের প্রথম প্রথম বিষয়টা নিয়ে অস্থিরতায় ভুগত, পরে অভ্যস্ততা চলে এসেছে। ভেজা মাথা মুছতে মুছতে খেতে বসে গেল আনিস। ‘আরো আগে চলে আসতাম, বুঝলা! মগবাজার জ্যামে আটকায়ে ছিলাম একঘণ্টা। শালার ঢাকা শহর! পনেরো মিনিটের পথ আসতে হইল দেড়ঘন্টায়। এই শহরে রাস্তায় রাস্তায় মানুষের অর্ধেক আয়ু শেষ! তুমি দাঁড়ায়ে আছ ক্যান? প্লেট নিয়া আসো, নাকি খেয়ে ফেলছ?’

মুনা তাকিয়ে রইল। বেচারার খিদে পেয়েছে অনেক, কেমন হুলুস্থুল করে খাচ্ছে। গালে ভাত লেগে আছে একটা। মাথার উপর ফ্যান ঘুরছে তাও কেমন কুলকুল করে ঘামছে। খাওয়া শেষ করে আনিস পান মুখে দিল একটা। আজকাল ভালোই পানের অভ্যেস করেছে, অফিস থেকে ফিরতে খিলিপান নিয়ে আসে হাতে করে। বেশ আয়েশ করে খায়। দ্রুত কাপড় পাল্টালো মুনা, ‘চল বের হই।’

আনিস উঠে বসল। ‘কি যে ঘুম পাইছে মুনা! চোখ বন্ধ হয়ে আসতেছে। তুমি রেডি? এইভাবে যাইবা! একটু সাজগোজ করোনা! আগে কি সুন্দর চোখে কাজল দিতা, ছোট্ট একটা টিপ পড়তা কপালে, কি সুন্দর লাগত তোমারে!’

দীর্ঘশ্বাস ফেলল মুনা, ‘চল দেরী হয়ে যাইতেছে।’

রাত এগারোটায় এ বাড়ীর গেট বন্ধ করে দেয়, বাড়ীওয়ালার নিয়ম কড়াকড়ি। দারুণ টেনশন আর বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এগারোটার আগেই পৌঁছতে পারল অবশেষে। রাস্তার নোংরা পানি আর কাদায় মাখামাখি কাপড়চোপড়। স্বভাব অনুযায়ী প্রচণ্ড বিরক্ত হওয়া স্বাভাবিক হলেও আনিসের মেজাজ ভাল। মালিবাগে মেইন রোডের পাশে এত সস্তায় ঘর পাওয়া যাবে এটা ভাবে নাই সে। পাশে একটা বস্তি আছে অবশ্য, ব্যাপার না! মুনারে এখান দিয়া সরানো দরকার। এই বাড়ী তার জন্য শোকের গোডাউন, এখানে থাকলে দিন দিন আরো অসুস্থ হয়ে যাবে। মুনার দিকে তাকাল একবার। এত সুন্দর চুল গুলো আচড়ায়ও না ঠিকমতো, কোন যত্ন নাই, কি সুন্দর ছিল দেখতে! এখন চোখের নিচে কালি পড়েছে, চোয়ালের পাশটা চেপে গেছে, গায়ের রঙটাও কেমন মলিন হয়ে গেছে আগের চেয়ে। বিছানায় বসতেই সে কাছে টানল মুনাকে। ‘এমন শক্ত হয়ে থাকো ক্যান মুনা! সারাদিন পর ঘরে ফিরে আমারও তো ইচ্ছা করে তোমারে একটু কাছে পাইতে! নাকি সেটা অন্যায়! ‘

মুনা ধবধবে সিলিংটার দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ, ‘চল ঘুমাই। হাতপা ব্যথায় সব টনটন করতেছে।

আনিসের হাতের বাঁধন আলগা হল ধীরেধীরে, এই বাড়ীটা ছাড়া জরুরী, খুব জরুরী।

৪.

গত একমাসে কাজের চাপ ছিল প্রচণ্ড, দম ফেলারও সুযোগ ছিলনা। মেয়েটার জ্বর হল গত সপ্তাহে, ডাক্তারের কাছে পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারলনা। এত ব্যস্ততার মধ্যেও মিসিং কেসটার হাল ছেড়ে দেয়নি মোস্তাক। একের পর এক চেষ্টা করেই যাচ্ছে। পুরো সদরঘাট এলাকাটায় চিরুনি অভিযান চালানো হয়েছে একরকম। কোন সূত্র তো দূরে থাক, একটা আভাসও পাওয়া যায়নি। দুদিন আগে মাজেদের সাথে সে নিজে কথা বলেছে। মাঝবয়সী এই লোকটাকে কোনভাবেই ক্রিমিনাল গোছের লোক বলে মনে হলনা। বিস্তারিত কথা হল। ভরসা করা যায় এমন কোন আভাস পাওয়া গেলনা তার কথায়। তবে সময় নিয়েছে, যাবার সময় বাচ্চাটার ছবি নিয়ে গেছে একটা। সময় দেয়া ছাড়া আর কোন উপায়ও নেই এক্ষেত্রে। তার নিজের পক্ষে এত বড় শহরের অলিগলি শুধু অনুমানের উপর ভর করে হাতড়ে বেড়ানো সম্ভব নয়। আচ্ছা! মেয়েটা দেশে আছে তো! নাকি পাচার হয়ে গেছে! সে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না একদমই। সেক্ষেত্রে কিছুই করার নেই কারো। হঠ্যাৎ অসহায় বোধ করল মোস্তাক।

ভদ্রমহিলা বেশ কয়েকবারই এসেছেন, হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। শেষবার খুব কান্নাকাটি করছিলেন। এত খারাপ লাগছিল! এত নরম মন নিয়া পুলিশের চাকরী করা মুসিবত। পুলিশের চাকরী করতে হলে সীমারের মত কলিজা হতে হয়। ড্রয়ারে রাখা পুরানো খবরের কাগজে চোখ বোলালো সে। ছোট্ট করে নিখোঁজ সংবাদ ছাপা হয়েছিল জুলাইয়ের ১২ তারিখে। তারমানে বাচ্চাটা হারানোর দুদিন পরে। ভদ্রমহিলা সাথে করে নিয়ে আসছিল পেপারটা। বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বর বিস্তারিত দেয়া আছে এখানে। মোস্তাক উঠে দাঁড়াল, রাত ১০:৩০। বাসায় ফেরা দরকার। মেয়েটা পুরোপুরি সুস্থ হয়নি এখনো। যাবার সময় ঘনার দোকান থেকে কাঁচাগোল্লা নিয়ে যেতে হবে, মেয়েটা পছন্দ করে।

বৃহস্পতিবার অফিসিয়াল ঝামেলা থাকে প্রচুর। দুপুরের পর একটু ফ্রি হল। সোর্স মঞ্জু গতকাল একটা খবর এনেছে, ওর ইনফরমেশন গুলো পাকা হয়। মোস্তাক বেরিয়ে পড়ল। আর্সিন গেটের উলটা দিকের সরু গলিটার ৫ নং বাড়ীটার দোতলায় উঠে গেল সরাসরি। দরজা খুলল ১৪/১৫ বছরের একটা মেয়ে। দক্ষ চোখে মূহুর্তেই ঘরের ভেতরটায় একবার চোখ বুলিয়ে নিল মোস্তাক।

‘গোলাপজান বেগম কে হয় তোমার; মা? তাকে ডাকো, বল থানা থেকে লোক আসছে।’

মেয়েটা ভেতরে চলে গেল, তার অভিব্যক্তিতে কোন ভয় বা আড়ষ্টতা দেখলনা। তার মানে থানার সাথে এবাড়ীর যোগাযোগ বেশ পুরানো। আনুমানিক চল্লিশোর্ধ এক মহিলা এলেন মিনিট পাঁচেক বাদেই।

আধা ঘন্টা কথা হল, তারপর বেরিয়ে এলো মোস্তাক। হাঁটতে হাঁটতে চলে এলো মন্টুর চায়ের দোকানে। কড়া এককাপ চা খাওয়া দরকার। গোলাপজানের চরিত্রটা বেশ রহস্যজনক। অতিমাত্রার ফর্সা আর স্বাস্থবতী এই মহিলার শরীরে না চাইলেও চোখ আটকে যায় বারবার। পান খাওয়া ঠোঁটে লেগে থাকা হাসিটায় অদ্ভুত মাদকতা আছে, চোখ টানে। সিগারেট ধরালো মোস্তাক। জর্দার তীব্র গন্ধে এখনো আচ্ছন্ন হয়ে আছে সে। মঞ্জুর ইনফরমেশন অনুযায়ী এই মহিলার শিশু পাচার চক্রের সাথে বেশ ভাল সখ্য আছে। গত একবছরে সদরঘাট এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের যে অংশ পাচার হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তার সাথে এই গোলাপজানের যোগসাজশ রয়েছে। তবে কোন প্রমাণ নেই। মঞ্জুর দেয়া তথ্য তাই বলে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ না থাকলে আইনি পদক্ষেপ নেয়া কঠিন। সে ক্ষেত্রে মোস্তাককে কথা বলতে হয়েছে গতানুগতিক নিয়মের বাইরে থেকে। কিন্তু সাংঘাতিক ধূর্ত এই মহিলা প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছে সুকৌশলে। এখান থেকে কোন সাহায্যের আশা করাটা বোকামি। সময়টা নষ্ট হল শুধুশুধু।

৫.

ব্যস্ততার আরেকটা দিন। দুপুরে খাবার সময়টুকু হয়নি পর্যন্ত। মন টা খুব বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে। গতকাল তাদের বিয়ে বার্ষিকী ছিল। এসব দিন টিন কখনো মনে রাখতে পারেনা সে। এতবছরে একথা বকুলকে যে কতবার বুঝিয়ে বলেছে! সংসারের এত বছর কেটে যাবার পরও এসব নিয়ে মনমালিন্য হওয়াটা খুবই হাস্যকর। সেখানে কালরাতে রীতিমত ঝগড়া হয়ে গেছে একচোট।

দেয়াল ঘড়িতে পরপর চারবার আওয়াজ হল। মোস্তাক হাত মুখ ধুয়ে নিল। খিদে পেয়েছে প্রচণ্ড , খিদে একদম সহ্য হয়না তার। খাবারে হাত দেয়া মাত্র ফোনটা বাজতে শুরু করল। এমন রাগ হল! সে খাওয়া শেষ করে হাত পরিষ্কার করে নিল। এখনো বেজে চলছে ফোনটা। বিরক্তি নিয়ে রিসিভার তুলল সে।

বাসে গেলে ভেঙে ভেঙে যেতে হবে, তাই সরাসরি অটোরিকশা নিয়ে নিল। আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছেনা সে। ফোনে যে ভদ্রলোকের সাথে কথা হল সে আনিসুর রহমান। রুকাইয়া নামের যে বাচ্চাটা নিখোঁজ রয়েছে তার বাবা। মগবাজারের একটা ক্লিনিক থেকে ফোন করেছে, তার স্ত্রী অসুস্থ। ব্যাপারটার সাথে তার উপস্থিতির কি সম্পর্ক, সেটাই মাথায় ঢুকছেনা। ভদ্রলোক খুব কাঁদছিলেন। আজ পুরো দিনটাই যাচ্ছে অস্থিরতায়।

ভাড়া মিটিয়ে মোস্তাক সিঁড়ি বেয়ে সোজা উঠে গেল দোতলায়। করিডোরে পা দিতেই লাল রঙে লেখা জরুরী বিভাগে চোখ আটকালো। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বয়স্ক নার্সকে ডাকল, ‘আচ্ছা, আজ দুপুরের পর একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন, স্বামীর নাম আনিসুর রহমান।’

‘জ্বী স্যার বুঝতে পেরেছি। I.C.U. তে আছে, সুইসাইড কেস। বাঁচার আশা নেই, শেষমুহুর্তে নিয়ে আসছে। ওয়াশ করে কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাসে রাখা হয়েছে। আপনি দাঁড়ান স্যার! ভদ্রলোককে খবর দেই।’

মিনিট পাঁচেক পরেই এক ভদ্রলোক ছুটে এলেন। মোস্তাক হাত ধরল তার, ‘অস্থির হবেন না প্লিজ! ব্যাপার কি, খুলে বলেন আমাকে। I.C.U. কোনদিকে? চলেন ওখানে যাই।’

স্বচ্ছ কাচের এপাশ থেকে মোস্তাক তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। মুখটা দেখা যাচ্ছেনা ভাল করে। পুরো ব্যাপারটা ঘোলাটে লাগছে, ‘কি হয়েছিল খুলে বলেন তো!’

মাথা নীচু করে রইল আনিস, ‘এনিয়ে মুনা তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করল। বাচ্চাটা হারিয়ে যাবার পর থেকে এমন করছে। অফিসেও টেনশনে থাকি সবসময়, বারবার ফোন দেই ও’ ঠিক আছে কিনা! আজ দুপুর থেকে ফোন ধরছিল না, আমি দুশ্চিন্তায় পাগল হয়ে বাসায় এলাম। দেখি বাথরুমে পড়ে আছে, পাশে ফিনাইলের খালি বোতলটা।

মোস্তাক তাকিয়ে আছে। ভদ্রলোক কাঁদছে। কিছু বলা উচিৎ। কিন্তু ঠিক গুছিয়ে সমবেদনা জানানোটা তার আসেনা। আনিস চোখ মুছল। কাঁধের ব্যাগটা থেকে লম্বা একটা খাম বের করল। ‘এই খামটা বাসায় টেবিলের উপর ছিল, পাশে ছোট একটা চিঠি, তাতে লেখা ছিল যে করেই হোক খামটা যেন আপনাকে পৌঁছনো হয়। ওকে ক্লিনিকে নিয়ে এসে রেখে আবার বাসায় যেতে হল টাকা আনতে, টেনশনে ভুলে গিয়েছিলাম। তখনই দেখলাম খামটা। তারপর ফোন দিলাম আপনাকে। আসলে মাথা ঠিক ছিলনা, খুব অসহায় লাগছিল। খামটা হয়ত পরেও পৌঁছনো যেত! শুধুশুধু কাজের মধ্যে বিরক্ত করলাম আপনাকে।’

বিস্ময় নিয়ে খামটা হাতে নিল মোস্তাক। গোটাগোটা অক্ষরে তার নাম লেখা, পাশে থানার নম্বরটা। করিডোরে রাখা বেঞ্চটায় বসে ধীরেধীরে খুলল, চিঠি!

ভাইজান,
সালাম জানবেন। শেষ যে বার আপনার সাথে দেখা হল, আমি খুব কান্নাকাটি করছিলাম। হঠ্যাৎ চোখে পড়ল আপনার চোখ দুটো ভেজা। আমি খুব অবাক হয়েছিলাম জানেন! ভালও লাগছিল, মনে হচ্ছিল আপনি আমার অনেক আপন কেউ। বাসায় ফিরেও ভাবলাম সারাদিন। মনে হল কিছু কথা, যা আমি জানাইনি, সত্যি বলতে গোপন করেছি, সেগুলো আপনাকে বলে যাই।

আনিস আমার দ্বিতীয় স্বামী। আড়াই বছরের মেয়েকে রেখে আমার প্রথম স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিলাম। ভাল মানুষ সকালবেলা অফিসে গেল, ফিরল লাশ হয়ে। এই শোক মানুষ কেমন করে সহ্য করে বলেন! আমার সইতে হল, মানিয়ে নিতে চেষ্টা করলাম একটু একটু করে। বছর খানেক বাদে এক বোনের বিয়েতে আনিসের সাথে দেখা। সবকিছু জেনেশুনেও সে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাল আমার বাড়ীতে। মায়ের সাথে কথা বলল। পরীর বয়স তখন সাড়ে তিন বছর, আমি ওর কথা ভেবে রাজী হলাম না। আনিস হাল ছাড়লনা। দেখা করল আমার সাথে সরাসরি। পরীর দায়িত্ব নিতে কোন আপত্তি নেই তার। ওর এমন আগ্রহ আর মায়ের পীড়াপীড়িতে শেষপর্যন্ত আমি রাজী হলাম। আমাদের বিয়ে হল, আনিসের এটা প্রথম বিয়ে।

ও’ ছোট বাসা নিল একটা। প্রথম সপ্তাহটা পরী বাড়ীতে মায়ের কাছে ছিল। ওর কান্নাকাটিতে অস্থির হয়ে মা ওকে নিয়ে এলেন ঢাকায়। মনে আছে, মেয়েটা আমার ঝাঁপিয়ে পড়েছিল কোলে। বারবার বলছিল কেন তারে ফেলে চলে আসছি আমি! আমারও কি যে শান্তি লাগছিল বুকটার ভেতর! সেদিন সারারাত সে আমার বুকের মধ্যেই ঘুমিয়েছিল, একটু ও নড়েনাই।

দুদিন বাদে আনিস ছোট একটা খাট আনল তার জন্য, বলল ‘আজ থেকে তুমি এই খাটে ঘুমাবা, কেমন! ‘

মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল ‘আমি একা ঘুমাব? ভয় লাগবে তো! তুমি ঘুমাবা না কেন আমার সাথে মা?’

আমি কি জবাব দেব খুঁজে পেলাম না। দিশেহারা হয়ে বললাম ‘এখন থেকে তোমার একটা খাট, আমার একটা খাট। এইটা অনেক মজা না?’

মেয়েটা জবাব দিল না। মুখটার দিকে তাকিয়ে এমন মায়া লাগছিল! তবু আমি আনিসকে বলতে পারলাম না, মেয়েটা কিছুদিন ঘুমাক না আমাদের সাথে! প্রতিরাতে মেয়েটাকে ঘুম পাড়ায়ে আমি যখন বিছানায় আসতাম, কিছুক্ষণ বাদেই মেয়েটা চলে আসত বালিশ নিয়ে, বলত ভয় লাগে আম্মি! আমি তারে জড়ায়ে ধরে ঘুমাতাম। বুঝতাম আনিস প্রতিরাতের এই বিষয়টায় বিরক্ত হচ্ছে। সেটাই তো স্বাভাবিক, তাইনা?

সারাদিন পর ক্লান্ত হয়ে অফিস থেকে ফিরে আনিস যখন বিশ্রাম নিত, সেই সময়টায় প্রায়ই পরী অনর্গল কথা বলে বলে রান্নাবাটি খেলত। আমার ভালই লাগত, কিন্তু আনিসের কপালের সরু ভাঁজে ছেদ পড়ত সেই ভালোলাগায়। অনেক কথা বলত পরী, অনেক বায়না করত, হাজারটা প্রশ্ন করত, উওর দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে যেতাম আমি আর আড়চোখে খাটে শুয়ে থাকা মানুষটার কপালের ভাঁজের সংখ্যা গুনতাম।

প্রথম যেদিন আনিস ধমক দিল পরীকে, আমার কলিজাটা ছিঁড়ে গেল। মেয়েটা কেঁপে উঠেছিল, বুঝতে পারেনি বেচারি, পানি খেতে গিয়ে গ্লাস উলটে ফেলে দিয়েছিল। আনিস অবশ্য পরে ভুল বুঝতে পেরেছিল, ক্ষমাও চেয়েছিল সেজন্য। আমি ভুলেও গিয়েছিলাম কিন্তু মেয়েটা নয়। তারপর থেকেই দূরে থাকত সে। আনিস অফিসে চলে গেলেই বলত ‘মা চল, এখান থেকে চলে যাই।’ পরীর দুনিয়া ছিলাম আমি। সবকিছুতেই আমাকে ডাকত, সবকিছু আমাকেই বলত। পরীর সাথে আমার এই সংযুক্তি অল্প হলেও আনিসকে দূরে ঠেলছিল ক্রমাগত। চুপ থাকলেও ভেতরের অসন্তোষটা ঠিকই টের পেতাম আমি।

আপনি তো বুঝবেন, এমন একটা পরিস্থিতিতে আমি কত অসহায়। দিনদিন এই দূরত্ব বাড়তে লাগল, বাড়তে থাকল আনিসের বিরক্তি, সংসারে শুরু হল চাপা অশান্তি। ঝগড়াও হতে লাগল মাঝেমধ্যে। আমি বুঝতেই পারতাম না কি করব! কাকে ফেলে দেব আমি, বলেন!

সেদিন ছিল ১০ জুলাই, শুক্রবার। আনিসের অফিস ছুটি। পরী খেলছিল। চেয়ারের উপর উঠে দাঁড়াতেই আমি রান্নাঘর থেকে বললাম পরী নেমে যা, ব্যথা পাবি। প্রায় তখনই প্রচণ্ড শব্দে রান্নাঘর থেকে ছুটে এসে দেখি চেয়ার উলটে পড়ে গেছে মেয়েটা, তেমন ব্যথা পায়নি কিন্তু চেয়ারের ধাক্কায় আলমারির সামনের গ্লাসটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। আনিস দৌড়ে এলো অন্য ঘর থেকে। আচমকা পরীকে থাপ্পড় দিল দু’তিনটা, মেয়েটা ঘুরে পড়ে গেল মেঝেতে। আমি হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। পুরো শরীর রাগে কাঁপছিল আমার। মেয়েটাকে নিয়ে সোজা চলে এলাম সদরঘাট। বললাম আজই তোরে দিয়ে আসব মায়ের কাছে, ওখানেই থাকবি তুই। সে চিৎকার দিল, কিছুতেই যাবেনা সে। ওয়েটিং রুমের বেঞ্চে বসে আরেক দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে রইল। সেদিন এত রাগ যে কোথাথেকে আসছিল আমার! সব রাগ এসে পড়ছিল মেয়েটার উপর। খানিক বাদে কোনমতে নিজেকে সামলে বললাম চল বাসায় চল। সে কিছুতেই আর বাসায় ফিরবেনা। হাত ধরে জোর করতেই সে নিচে শুয়ে পড়ল, চিৎকার করে বলতে লাগল, যাবেনা সে, কিছুতেই যাবেনা। এমন রাগ উঠল আমার! কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ওরে ফেলে আমি সোজা হাটা শুরু করলাম। মিনিট দশেক পরে আমার হুশ ফিরল, কি করতেছি আমি! ততক্ষণে হকার্স মার্কেটটা পর্যন্ত চলে এসেছি আমি। দৌড়ে গেলাম ওয়েটিংরুমে যেখানে মেয়েটাকে রেখে আসছিলাম। দেখি কোথাও নেই পরী, মেয়েটা আমার হারিয়ে গেল এটুকু সময়ের মধ্যে।

কেমন করে নিজেকে মাফ করি বলেন তো! এমন মায়েরে কি মাফ করা যায়! মনের যন্ত্রণায় আমি ছটফট করি প্রতিমূহুর্ত। কি যে যন্ত্রণা! বাঁচতে পারতেছিনা ভাইজান। আমি জানি, আপনি অনেক চেষ্টা করতেছেন মেয়েটাকে খুঁজে বের করার। আমি জানিনা পাবেন কিনা! আমি জানিনা সে বেঁচে আছে কিনা! আর লিখতে পারছিনা, বুকটা ব্যথায় ধরে গেছে। একটাবার যদি মেয়েটারে বুকে জড়ায়ে বলতে পারতাম — মারে! মাফ করে দে না মাকে!

চিঠি হাতে নিয়ে মোস্তাক বসে রইল নিশ্চুপ হয়ে। মাথার ভেতরটা কেমন ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। কাচের দরজা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটির দিকে তাকাল একবার, কাঁদছে সে। এ কান্নায় কোন ভান নেই, আছে আপনজন হারানোর তীব্র আশংকা, হাহাকার। সেলফোনের রুক্ষ আওয়াজে চমকে উঠল মোস্তাক, থানা থেকে সাজ্জাদ।

‘স্যার, মাজেদ আসছে। বসে আছে অনেক্ষণ। ও’ বলছে টংগী রেলওয়ে বস্তির কাছে একটা স্কুল আছে, আশ্রম টাইপের। সেখানে হুবহু এই চেহারার একটা বাচ্চা দেখে আসছে। কিন্তু ওখানকার রেজিস্ট্রি খাতায় মেয়েটার নাম পরী, রুকাইয়া না। আপনি কি একবার আসবেন? মাজেদ আপনাকে নিয়ে একবার যেতে চায় ওখানে। স্যার শুনতে পাচ্ছেন? স্যার!’

মোস্তাক উঠে দাঁড়াল, তার পা টলছে। গ্লাসের ওপাশের প্রায় নিষ্প্রাণ মুখটার দিকে তাকাল একবার। এ পৃথিবীতে কত অলৌকিক ঘটনা ঘটে। আজ একটাবার যদি তেমন কিছু ঘটে, খুব কি ক্ষতি হত!

-নাঈমা পারভীন অনামিকা